পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন না হলে প্রতিশ্রুতিতে ফিরবে না ইরান

সংগ্রহিত

পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন না হলে প্রতিশ্রুতিতে ফিরবে না ইরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, আমেরিকার সর্বোচ্চ শত্রুতা ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ সত্ত্বেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার তার দেশের চোখ ধাঁধানো উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। 

তিনি আজ ইসলামি বিপ্লবের ৪২তম বিজয়বার্ষিকী উপলক্ষে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে এ মন্তব্য করেন।

ভাষণের অন্য অংশে তিনি বলেন, যেদিন ছয় জাতিগোষ্ঠী পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে কেবল সেদিনই ইরান এই সমঝোতায় নিজের দেয়া প্রতিশ্রুতিতে ফিরে যাবে তার আগে নয়।

প্রতি বছর শোভাযাত্রা শেষে তেহরানের আজাদি স্কয়ারে সমবেত জনতার উদ্দেশে প্রেসিডেন্টের ভাষণ ছিল বিগত চার দশকের ঐতিহ্য। কিন্তু চলতি বছর করোনাভাইরাসের কারণে একস্থলে সমাবেশ করা এবং সমবেত জনতার উদ্দেশে প্রেসিডেন্টের ভাষণ বাতিল করা হয়। এর পরিবর্তে হাসান রুহানি টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। 

ইরানের প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে বলেন, তার দেশের জনগণের প্রতিরোধ এবং সরকারের সুচিন্তিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারণে আমেরিকার ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা ও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ ব্যর্থ হয়েছে।

হাসান রুহানি বলেন, ইরানের জনগণ হোয়াইট হাউজের স্বৈরশাসক ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং ধৈর্যের চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে তাকে পরাজিত করেছে।

হাসান রুহানি বলেন, আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি ইরানও এই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যেত তাহলে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের তেহরান বিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে যেত।

হাসান রুহানি দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ দিনগুলো অতিক্রম করছেন। আগামী জুন মাসে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এ সম্পর্কে বিপ্লব বিজয় বার্ষিকীর ভাষণে তিনি বলেন, সব রকম আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও তার বিগত আট বছরের শাসনামলে অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও জ্ঞানগত দিক থেকে ইরান সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে। ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক উন্নতির লক্ষ্যপানে ইরানের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।