পরীমনির যৌন হয়রানি মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ

পরীমনির যৌন হয়রানি মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ
যৌন হয়রানির অভিযোগে করা পরীমনির মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। এ সময় পলাতক আসামি শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) এ আদেশ দেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক হেমায়েদ উদ্দিন।

এ মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছিল। গত ১ ডিসেম্বর মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানি হয়েছে। শুনানি শেষে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং তুহিন সিদ্দিকী অমির জামিন মঞ্জুর করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক হেমায়েদ উদ্দিন জামিন মঞ্জুর করেন। এদিন আদালতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দেন পরীমনি।

একই দিন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন নাসির-অমি। নাসির-অমি আত্মসমর্পণ করলেও মামলার অপর আসামি শহিদুল আলম পলাতক রয়েছেন। সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

গত ১৪ জুন সাভার থানায় মামলাটি করেছিলেন পরীমনি। ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দুটি গাড়িতে করে তারা উত্তরার উদ্দেশে রওনা হন। পথে অমি বলে বেড়িবাঁধের ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে। অমির কথামতো তারা সবাই রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করান। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। অমি ক্লাবের ভেতরে গিয়ে বলে এখানকার পরিবেশ অনেক সুন্দর, তোমরা নামলে নামতে পার।
এজাহারে আরও বলা হয়, তখন আমার ছোট বোন বনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বোট ক্লাবে প্রবেশ করে এবং বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করে। টয়লেট থেকে বের হতেই এক নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন।

আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ এক নম্বর আসামি মদপানের জন্য জোর করেন। আমি মদপান করতে না চাইলে এক নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এতে আমি সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।