পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় শিশু-সেনাসহ নিহত ৬

পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় শিশু-সেনাসহ নিহত ৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরানশাহে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন শিশু ও তিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো জঙ্গি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) গতকাল রবিবার (১৫ মে) আত্মঘাতী এ হামলার খবর জানিয়েছে।  শনিবার (১৪ মে) দেশটির খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরানশাহের কাছে ছোট বাজারে একটি সামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনাস্থলটি আফগানিস্তান থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা জানান, আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হেঁটে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) বলেছে, নিহতদের মধ্যে তিন সেনা সদস্য ও তিন শিশু রয়েছে।  তিন শিশুর বয়স ৪ থেকে ১১ বছরের মধ্যে।

নিহতরা হলেন- ল্যান্স হাবিলদার জুবায়ের কাদির (৩৩), কাসিম মাকসুদ (২২), উজাইর আসফার (২১), আহমেদ হাসান (১১), আহসান (৮) ও আনুম (৪)।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আত্মঘাতী ওই হামলাকারী ও তার সহযোগীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  আত্মঘাতী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। একই সঙ্গে নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে শাহবাজ শরীফ বলেন, নিরীহ শিশুদের হত্যাকারীরা ইসলাম ও মানবতার শত্রু। এ বর্বর হামলা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বের না করা পর্যন্ত আমরা চুপ করে বসে থাকব না।

এ অঞ্চলে পাকিস্তানি তালেবান হিসেবে পরিচিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) জঙ্গি হামলার সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

তবে পেশোয়ারে ২০১৪ সালে ১৫০ জন স্কুল শিক্ষার্থীর নৃশংস গণহত্যার পর পরিচালিত সেনা অভিযানে তাদের উৎখাত করা হয়। গত বছরে তালেবানরা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলা বেড়ে গিয়েছে।