পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা

পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা
পাকিস্তান থেকে এক ডজন জেএফ-১৭এ ব্লোক-১১১ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করেছে আর্জেন্টিনা।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির পার্লামেন্টে ২০২২ সালের বাজেটের ৬৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার এই খাতে বরাদ্দ ঘোষণার পর এমন খবর এসেছে।

তবে এখন পর্যন্ত দুদেশের মধ্যে কোনো চুক্তি সই হয়নি। তবে বিভিন্ন কারণে জেএফ-১৭ বিমান ক্রয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা। অথবা বলা যায়, এ রকম বাধ্য হয়েই যুদ্ধবিমান ক্রয়ে পাকিস্তানের দারস্ত হতে হয়েছে দেশটিকে।-খবর ডন অনলাইনের

অন্যান্য উৎস থেকে বিমান ক্রয়ের চেষ্টা করলে ব্রিটেন তা আটকে দেওয়ার পর আর্জেন্টিনা গত বছর থেকে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা করে আসছে।

১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর থেকে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে ব্রিটেন। এরপর সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চেষ্টা করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। কিন্তু ব্রিটিশ চাপে ব্রিক্রেতারা পিছুহটলে আর্জেন্টিনা তাদের কাছ থেকে কোনো বিমান কিনতে পারেনি।

২০১৫ সাল থেকে সুইডিশ জেএএস৩৯ গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চেষ্টা করছে আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার এফএ-৫০ ফাইটিং ইগল কেনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখেনি।

কিন্তু জেএফ-১৭ এর ইজেক্টর সিট যুক্তরাজ্য নির্মাণ করায় বিমানটি আর্জেন্টিনার কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া আর্জেন্টিনা খুব বেশি খরচের বিমান ক্রয়ের দিকে যেতে চাচ্ছে না। কারণ বিমান বাহিনীর বাজেটের ক্ষেত্রে দেশটির ঘাটতি রয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে আর্জেন্টিনার বিমান বাহিনী শূন্য হয়ে পড়েছে। কারণ তাদের অতি পুরনো ডাসোল্ট মিরাজ ১১১ ইন্টারসেপ্টর বিমান অবসর নিয়েছে। যদিও এই এই বিমানকে তাদের বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।

পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার একটি অত্যাধুনিক, হালকা ওজনের, সব পরিস্থিতিতে দিনে ও রাতে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করতে পারে। পাকিস্তান এয়ারোনোটিক্যাল কমপ্লেক্স (পিএসি), কামরা ও চীনের চেংডু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে এই বিমান নির্মাণ করা হয়েছে।

পিএসি’র চমৎকার আকাশ থেকে আকাশে ও আকাশ থেকে স্থলে যুদ্ধসক্ষমতা রয়েছে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির এই বিমানে সাম্প্রতিক নির্মিত যে কোনো অস্ত্র মোতায়েন করাও সম্ভব। এতে শত্রু বাহিনীর থেকে অনেকটা সুবিধাজনকভাবে এগিয়ে থাকা সম্ভব।