পুরনো চিত্র গণপরিবহনে, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

সংগ্রহীত

পুরনো চিত্র গণপরিবহনে, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

করোনা ভাইরাস মহামারির ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যান চলাচলের কথা বলা হয়েছে। তবে রাজধানীর চিত্র দেখে মনে হয় তা যেন শুধু কাগজ-কলমেই রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) রাজধানীর একাধিক রুট ঘুরে দেখা যায়, কিছু কিছু বাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীরা গন্তব্যে গেলেও অধিকাংশ বাসে গাদাগাদি করে যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব না মেনে যাত্রীদের বাসে ওঠতেও দেখা যায়।

বাসের ভেতরের চিত্র আরও অন্য রকম। যাত্রীরা ঠেলাঠেলি করে ওঠার পর অনেক বাসেই কোনো সিট খালি রাখা হচ্ছে না। গাদাগাদি করে সব সিটেই মানুষ বসছে। আবার দাঁড়িয়েও যাচ্ছে অনেকে। কারও কারও মুখে নেই মাস্কও। সকালের দিকে বাসগুলো কিছুটা ফাঁকা থাকলেও বেলা বাড়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন রুটের বাসগুলোতে একই অবস্থা দেখা গেছে।

এদিকে পরিবহনগুলো অতিরিক্ত যাত্রী ও ৬০ শতাংশ ভাড়া উভয়ই নেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেক যাত্রী। আবার বেশি ভাড়া নিয়ে গেট বন্ধ করে চলতে দেখা গেছে অনেক রুটের বাসকে। পরিবহনগুলোর অধিকাংশ পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার ঘটনা দেখা গেছে। বিশেষ করে বাসে যাত্রী ওঠানোর আগে স্যানিটাইজারের কোনো চিত্রই দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে আরিফ হোসেন নামে কারওয়ান বাজারে এক যাত্রী বলেন, বাস চালু হওয়ায় সুবিধা হয়েছে, তবে অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর বাস আসছে। আসার সময় বাসে ওঠার পর দেখতে পেয়েছি কোনো সিট নেই। এক প্রকার বাধ্য হয়েই আমরা পাশাপাশি সিটে আসলাম। এ সুযোগটি নিচ্ছে বাসের হেলপারা। অনেকে আবার দাঁড়িয়েও আসছেন। তবে ভাড়া সেই অতিরিক্তই নিচ্ছেন।

শাহবাগ মোড়ে কাওসার হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, এটা ঠিক যে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রী সবারই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। তবে কী করার আছে বলেন, রুটে গাড়ি কম। বিশেষ করে অফিস ছুটির সময় গাড়িই পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়েই অনেকেই ফেরার তাগিদে নির্দেশনা ভঙ্গ করেই গাড়িতে ওঠে পড়েন।

বিহঙ্গ পরিবহনের এক হেলপার আলমগীর বলেন, গণপরিবহনে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানানো খুবই কষ্টকর। যাত্রীদের অনেকেই সাধারণ নিয়ম মানতে চান না। যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কী করার থাকবে। সবাই জোর করে বাসে ওঠে পড়ে। আর কয়েকটি রুটে যাত্রী বেশি হওয়ায় গাদাগাদি করে যাতায়াত করছেন। তবে সেই সংখ্যা খুবই কম। আমরা যাত্রীদের সচেতন করি। কিন্তু অনেক যাত্রী তা মানতে নারাজ।

অনেকগুলো বাসে সব সিটে লোক বসানোর পর দাঁড় করিয়েও যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাব্বাইক পরিবহনের চালক ইসরাফিল বলেন, প্রথমে আমরা সবাইকে জীবাণুনাশক দিয়েছি। কিন্তু যাত্রীদের তাতে আগ্রহ কম। তবে আমরা সব সময়ই সঙ্গে রাখি, যাত্রীদের দেওয়ার চেষ্টা করি। আর যারা একই পরিবারের সদস্য তারা দুই সিটে পাশাপাশি বসেছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত অধিকাংশদের কোনো প্রকার উপসর্গ দেখা যায় না। তাই গণপরিবহনে নিজের নিরাপত্তার জন্য যাত্রীদেরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।