পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে হবিগঞ্জ রণক্ষেত্র

পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে হবিগঞ্জ রণক্ষেত্র

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে জেলা পর্যায়ে সমাবেশ শুরু করেছে দলটি। বুধবার একযোগে দেশের পাঁচ জেলায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় হবিগঞ্জ। পুলিশ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশ অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

এদিকে এসব সমাবেশে অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির নেতারা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংলাপ-সংলাপ খেলা শুরু হয়েছে। এসব সংলাপ করে কোনো লাভ হবে না। কারণ, এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নিরেপক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়, তা আজ প্রতিষ্ঠিত। তাই এ সরকারকে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে তাদের অধীনে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।

খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিএনপি নেতারা বলেন, আমরা বারবার বলছি মানবিক কারণে তাকে বিদেশ যেতে বাধা দেবেন না। কিন্তু সরকার সে কথা শুনছে না। চিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায় সরকারকে বহন করতে হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে দেশের ৩২ জেলায় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। এর অংশ হিসাবে প্রথমদিন টাঙ্গাইল, হবিগঞ্জ, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোরে সমাবেশ করে দলটি। শুক্রবার গাজীপুর, জয়পুরহাট, জামালপুর, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী ও গাইবান্ধা; ২৬ ডিসেম্বর চাঁদপুর, নরসিংদী, লালমনিরহাট, ঝিনাইদহ, পাবনা ও মুন্সিগঞ্জ; ২৮ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, সুনামগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও মেহেরপুর এবং ৩০ ডিসেম্বর কক্সবাজার, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর ও খাগড়াছড়িতে হবে সমাবেশ।

পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে হবিগঞ্জ রণক্ষেত্র : হবিগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে শহরের শায়েস্তানগর থেকে সার্কিট হাউজ রোড পর্যন্ত এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বুধবার বেলা পৌসে ২টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে পুলিশ অন্তত অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। সংঘর্ষে পণ্ড হয়ে যায় সমাবেশ। এ ঘটনায় পুলিশ সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জনকে আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে বুধবার সমাবেশের আয়োজন করে জেলা বিএনপি। শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত হন। বেলা ২টার কিছু আগে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে রওয়ানা হন।

এ সময় শায়েস্তানগর পয়েন্টে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে শুরু হয় সংঘর্ষ। বিকাল পৌনে ৩টা পর্যন্ত টানা সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে আহতদের হবিগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব আহমেদ রিংগনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে আসার সময় বিভিন্ন স্থানে পুলিশ তাদের বাধা দিয়েছে। শহরের শায়েস্তানগরে বাধা দিলে নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তাদের নিয়ে আসেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা আক্তার শিমুল জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল। হঠাৎ বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ২৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

সমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর বিকাল সাড়ে ৩টায় এক সংবাদ সম্মেলনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্র নেই-এটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সরকার ১২ বছর ধরে গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। দেশে গণতন্ত্র নেই, সেটি হবিগঞ্জের ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে। খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে আইনের কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে সরকারের। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আজ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, ড. এনাম আহমেদ, খন্দকার মোক্তাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সমবায়বিষয়ক সম্পাদক জি কে গউছ, কেন্দ্রীয় নেতা শাম্মী আক্তার, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।

এদিকে সংঘর্ষের পরও নেতাকর্মীরা বাড়িঘর ছাড়বে না বলে দাবি করেছেন জি কে গউছ। তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা বললে এখনই মিছিল দেবে। তবুও পালিয়ে যাবে না। কারণ, মানুষের মধ্যে এখন ত্যাগের মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে হবিগঞ্জে সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল।

সংলাপ-সংলাপ খেলা শুরু হয়েছে-মির্জা ফখরুল : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংলাপ-সংলাপ খেলা শুরু হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকে ডেকে সংলাপ করছেন। সংলাপ করে কোনো লাভ হবে না। কথায় আছে, পুরোনো জিনিস আবার নতুন বোতলে দিয়ে কোনো কাজ হবে না। নিরক্ষেপ সরকার না থাকলে সংলাপ করে কোনো লাভ নেই।

বুধবার বিকালে টাঙ্গাইলে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় জেলা সদর মাঠে আয়োজিত সমাবেশে ফখরুল ইসলাম বলেন, এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার না থাকলে সে নির্বাচন কোনোদিন অবাধ, সুষ্ঠু হতে পারে না। তাই নির্বাচন-নির্বাচন করে কোনো লাভ নেই। সমস্যার সমাধান এক জায়গাতেই। সে সমাধান হচ্ছে নির্বাচনের সময়ে একটি নিরপেক্ষ সরকার দিতে হবে। যেটিকে আমরা বলি তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আর এই সরকারকে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে তার অধীনে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বর্তমান সরকার বেআইনিভাবে ক্ষমতায় থেকে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য আইন দেখাচ্ছেন। কিন্তু সরকারই বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। খালেদা জিয়াকে এই মুহূর্তেই চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো দরকার। আমরা বারবার বলেছি, এ মানবিক কারণে তাকে বিদেশে যেতে বাধা দিবেন না। কিন্তু তারা এ কথা শুননেন না। যদি এই কারণে তার মৃত্যু হয়, তার দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে, নির্যাতন করে, গুম-হত্যার মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মাহমুদুল হকের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা গৌতম চক্রবর্তী, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, ওবায়দুল হক নাসির, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।

যশোরে বিএনপির সমাবেশে মানুষের ঢল : যশোরে বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সরকার সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নাম খুঁজছে। এই সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। এমনকি ঘরে বসেও থাকবে না। একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করা হবে।

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে বুধবার বিকালে যশোর টাউন হল ময়দানে জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ সমাবেশ হয়। যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপিকা নার্গিস বেগমের সভাপতিতে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু প্রমুখ।

সমাবেশে মির্জা আব্বাস আরও বলেন, এ দেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা মুক্তি পেয়ে বিদেশে চলে যায়। অথচ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আইনের দোহাই দিয়ে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না। এ সরকার চায় খালেদা জিয়াকে আটকে রাখতে। কারণ তারা মনে করেন, খালেদা জিয়া দেশের বাইরে গেলে এ সরকার টিকে থাকতে পারবে না। তবে তাকে আটকে রেখেও শেষরক্ষা হবে না। বিএনপি নেতাকর্মীরা আন্দোলনের মাধ্যমে আপনাদের পতন ঘটাবে। সমাবেশে আসতে বাধা দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, যশোর হলো বাধা অতিক্রম করার জেলা। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের সোপান এখান থেকেই শুরু হলো।

এদিকে বিএনপির গণসমাবেশ ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ শহরমুখী হয়। দুপুরের আগেই শহরের টাউন হল ময়দান বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। দুপুরের পর শহরে মানুষের ঢল নামে।

পাড়া-মহল্লায় আন্দোলন গড়ে তুলুন-বগুড়ায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় : বগুড়ার সমাবেশে অংশ নিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, জনগণ যখন কোনো সরকারকে চায় না, তখন কোনো বিদেশি শক্তি তাকে রক্ষা করতে পারে না। যখন বিপদ আসবে, পুলিশও তখন পাশে থাকবে না। জনগণই আমাদের শক্তি। তাই পাড়া-মহল্লায় আন্দোলন গড়ে তুলুন। সাহস করে রাজপথে নামলে সরকার বিদায় নেবেই।

তিনি বলেন, যারা ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের চোখে ঘুম নেই। মার্কিন সরকার র‌্যাবসহ কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যক্তিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এতেই তারা আতঙ্কিত। সামনে আর কাদের নাম আসবে, তা দেখার অপেক্ষায় জাতি।

দুপুরে বগুড়া জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরের নবাববাড়ী রোডস্থ জেলা কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনার পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ-সদস্য মোশারফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগাঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান প্রমুখ। সমাবেশ উপলক্ষ্যে সকাল থেকে জেলার প্রতিটি এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন-দিনাজপুরে নজরুল ইসলাম খান : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, খালেদা জিয়া শুধু তিনবারের প্রধানমন্ত্রীই নন, তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষকেরও স্ত্রী। তিনি ছোট্ট দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর কারাগারে বন্দি ছিলেন। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

এরপরও সরকার তাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে না। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি। বুধবার বিকালে দিনাজপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত জেল রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিকালে সমাবেশটি রেলস্টেশন চত্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় দলীয় কার্যালয়েই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা ব্যানার-ফেস্টুনসহ মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে সমবেত হন। বিকাল সাড়ে ৩টায় নেতাকর্মীরা মিছিল বের করতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। পরে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিন আকিল, সহ-সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম নাজু, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাহাবুদ্দিন মুন্না, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি রেজাউল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহিন সুলতানা বিউটি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলী চৌধুরী লিমন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউর রহমান রেজা প্রমুখ। দিনাজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল ও আখতারুজ্জামান জুয়েল সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন।

শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশি হামলা ও গুলিবর্ষণ ন্যক্কারজনক-রিজভী : এদিকে হবিগঞ্জের সমাবেশে হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। বুধবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ নিন্দা জানিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশি হামলা ও গুলিবর্ষণ বর্বরোচিত, কাপুরুষোচিত ও ন্যক্কারজনক। ক্ষমতায় টিকে থাকতে পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করেছে সরকার। হবিগঞ্জে পুলিশের হামলায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে সমাবেশে হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা।