প্যারাগুয়ের জালে ব্রাজিলের গোল উৎসব

প্যারাগুয়ের জালে ব্রাজিলের গোল উৎসব
আগের ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে জয়বঞ্চিত ছিল ব্রাজিল। তবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সেটির শোধ নিল যেন তিতের শিষ্যরা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে নিজেদের মাঠে প্যারাগুয়েকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নেইমারবিহীন ব্রাজিল।

গত জুনে প্যারাগুয়ের মাঠে ২-০ গোলে জিতেছিল তারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দলটির বিপক্ষে টানা চার ম্যাচ জিতল সেলেসাওরা। এবারের হারে কাতার বিশ্বকাপে খেলার সব আশা শেষ হয়ে গেল প্যারাগুয়ের।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটের মাথায় এগিয়ে যেতে পারতো ব্রাজিল। প্যারাগুয়ের দুই খেলোয়াড়কে ফাঁকি দিয়ে রাফিনহার শট প্রতিপক্ষের জাল ভেদ করে। তবে হ্যান্ডবলের জোরাল আবেদন হলে দীর্ঘক্ষণ ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সঙ্গে আলোচনার পর হ্যান্ডবলের বাঁশি বাজান রেফারি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ শানিয়েছে ব্রাজিল। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় অনেকটা সময়। অবশেষে ২৮ তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন সেই রাফিনহা। তার গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

বিরতির পর পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফিলিপে কৌতিনহো। ৬৮ মিনিটের মাথায় তার চোখজুড়ানো শটে গ্যালারি প্রকম্পিত হয় যেন।

এদিন ব্রাজিল যেন গোল উৎসবে মাতে। ৮৬ মিনিটে দলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন অতিরিক্ত সময়ে খেলতে নামা অ্যান্টনি। এছাড়া নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র দুই মিনিট আগে এক হালি পূর্ণ করেন রদ্রিগো। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলে এগিয়ে থেকেই খেলা শেষ করে ব্রাজিল।

এর আগে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) লা কাসাব্লাঙ্কায় ব্রাজিলকে রুখে দিয়েছিল ইকুয়েডর। ৩২ ফাউলের ম্যাচটি ১-১ গোল সমতায় শেষ হয়। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ক্যাসেমিরো। ঘরের মাঠে সমতায় ফিরতে অবশ্য বেশ বেগ পেতে হয় ইকুয়েডরকে। ম্যাচের ৭৫ তম মিনিটে তরেসের গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

লাতিন আমেরিকার ফুটবল মানেই নান্দনিকতা। তবে ব্রাজিল ও ইকুয়েডরের ম্যাচটি যেন ছিল মার্শাল আটের। ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিনবার লাল কার্ড উচিয়ে ধরেন ম্যাচ রেফারি। যদিও ভিআর চেকে একটি যায় বাতিলের খাতায়। পুরো ম্যাচে ফাউলের সংখ্যা ৩২। বল দখলে এগিয়ে থাকা ব্রাজিল গোলের জন্য শট নেয় ১২টি, যার ৬টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ইকুয়েডরের ১০টি শটের একটি ছিল লক্ষ্যে।

২০১৫ সালের অক্টোবরে সান্তিয়াগোতে সবশেষ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে হারের মুখ দেখেছিল ব্রাজিল। এরপর সময় গড়িয়ে ব্রাজিলের জয়যাত্রায় ফাটল ধরাতে পারেনি কেউ। বাছাইয়ে ৩১ ম্যাচ অপরাজিত সেলেসাওরা।

ব্রাজিল একাদশ.  এডারসন, দানি আলভেস, থিয়াগো সিলভা, মারকুইনোস, অ্যালেক্স টেলেস, লুকাস পাকেতা, ফিলিপে কৌতিনহো, ফাবিনহো, রাফিনহা, ম্যাথিউস কুনহা এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়র।

প্যারাগুয়ে একাদশ.
অ্যান্থনি সিলভা, সান্টিয়াগো আর্জামেন্ডিয়া, জুনিয়র আলোনসো, ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনা, রবার্ট রজাস, রিচার্ড, সানজেস, ম্যাথিয়াস ভিল্লাসানটি, সামু, মিগুইল আলমিরন, ব্রায়ান ওজেদা এবং কার্লোস গঞ্জালেস।