প্রথম হারের স্বাদ পেল কুমিল্লা

প্রথম হারের স্বাদ পেল কুমিল্লা
চলতি বিপিএলে তিন ম্যাচ খেলে সবকটিতেই জয় পেয়েছিল আসরের ফেবারিট কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তবে মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিপক্ষে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নেমে হোঁচট খেয়েছে ভিক্টোরিয়ান্স। ঢাকার জয় ৫০ রানের বড় ব্যবধানে।

ঢাকার দেওয়া ১৮১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ইনিংসের তৃতীয় বলে হারায় ইনফর্ম লিটন দাশের উইকেট। ডাক মারেন এই স্টাইলিশ ব্যাটার। মারমুখী হতে গিয়ে রুবেল হোসেনের বলে টপ এজড হয়ে ধরা পড়েন উইকেটকিপার ইমরানুজ্জামানের হাতে। উইকেটে এসে ফাফ ডু প্লেসি হাল ধরেন আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের সাথে।

কিন্তু সেট হওয়ার আগেই জয়ের এক অসম্ভব রান নেওয়ার প্রচেষ্টায় রানআউট হয়ে যান তিনি। দলের রান তখন মাত্র ১২। উইকেট হারানোর মাঝেই একপাশে থেকে দারুণ ব্যাট করতে থাকেন তরুণ তুর্কি মাহমুদুল হাসান জয়। উইকেটের চারপাশে শটের ফুলঝুরি ছোটান তিনি। তাকে সঙ্গ দেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। মাত্র সাত ওভারে দুজন মিলে যোগ করেন ৭০ রান। দলীয় ৮২ রানের মাথায় এগারোতম ওভারের প্রথম বলে ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলের বলে ইনসাইডএজড হন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। ২৩ বলে দুই চার, এক ছয়ে ২৮ রান করেন তিনি।

অধিনায়কের বিদায়ের পর মড়ক লাগে কুমিল্লার ইনিংসে। ১২তম ওভারের শেষেই মাত্র ৫ রান যোগ করতেই আরো তিনটি উইকেট হারায় কুমিল্লা। বিদেশি তারকা কেউই জ্বলে উঠতে পারেন নি মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার বিরুদ্ধে। ক্যামেরুন ডেলপোর্ট, করিম জিনাত, দুজনই ফেরেন অল্প রানে।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমেছিল মাহমুদউল্লাহর ঢাকা। প্রথমে ব্যাট করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ১৮১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় ঢাকা। ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।
কুমিল্লার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রানেই প্রথম উইকেট হারায় মিনিস্টার ঢাকা। শাহজাদকে এলবিডব্লিউ করেন মুস্তাফিজ। তবে ইমরানউজ্জামানকে নিয়ে দারুণভাবে রানের চাকা সজাগ রাখেন গত ম্যাচে শতক করা তামিম ইকবাল। তবে তানভির ইসলামের বলে ৪৬ রানে আউট হন তামিম।
এরপর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ নেমে ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তুলে নেন অর্ধশতক। তার ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩ চার এবং ৪ ছক্কায়। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ এবং তামিম বাদে কেউ ভাল ইনিংস খেলতে পারেননি। কুমিল্লার হয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন তানভির ইসলাম। এ ছাড়াও একটি করে উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজ, শহিদুল ও করিম জানাত।

মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা একাদশ: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, নাঈম শেখ, শুভাগত হোম, রুবেল হোসেন, এবাদত হোসেন, ইমরানউজ্জামান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোহাম্মদ শাহজাদ (উইকেটরক্ষক), অ্যান্ড্রু রাসেল এবং কাইস আহমেদ।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস একাদশ: ইমরুল কায়েস (অধিনায়ক), লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), ফাফ ডু প্লেসিস, ক্যামেরন ডেলপোর্ট, আরিফুল হক, শহিদুল ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম, তানভির ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, মোস্তাফিজুর রহমান ও করিম জানাত।