প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পরও বিক্ষোভে জ্বলছে শ্রীলঙ্কা

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পরও বিক্ষোভে জ্বলছে শ্রীলঙ্কা

টালমাটাল অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে গতকাল সোমবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু এরপরও ক্ষোভ কমেনি বিক্ষোভকারীদের। সান্ধ্য আইনের মধ্যেও রাজাপাকসের পৈত্রিক বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন এমপি এবং একজন বিচারপতির বাড়ি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, কলম্বোয় সহিংসতায় এক সংসদ সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ২শ জন।

স্বাধীনতার পর থেকে এখনই সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সঙ্কটে রয়েছে ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। বিরোধী দলগুলো এই দুর্দশার জন্য প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে এবং তার বড় ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসেই দায়ী করছেন।

গত কয়েক মাস ধরে জনবিক্ষোভের মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে পরিবারের কয়েক সদস্যকে বাদ দেন মাহিন্দা। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভ থামছিল না।

রোববার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ডাকে নজিরবিহীন এক হরতালে গোটা দেশ অচল হয়ে পড়ার পর মাহিন্দার পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়ালেও নিশ্চিত খবর মিলছিল না।

সোমবারও রাজধানী কলম্বোজুড়ে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ চলার মধ্যে শ্রীলঙ্কার সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী চান্না জয়াসুমানা এবং শ্রমমন্ত্রী বিদুরা বিক্রমানায়েকেও পদত্যাগ করেছেন বলে সংবাদপত্রটি জানায়।

প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করায় প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া একটি সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য পার্লামেন্টে থাকা সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ক্ষমতাসীন দলের একদল সমর্থক জড়ো হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এরপর প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দার সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়। এই বৈঠক শেষ করে তারা মিছিল করে গিয়ে প্রেসিডেন্ট দপ্তরের সামনে অবস্থানরত সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের উপর হামলা চালায়।

তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠি ও লোহার পাইপ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলকারীদের সেখান থেকে সরাতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের এ হামলার ঘটনার পর দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে বুধবার পর্যন্ত কারফিউ জারির পর পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার খবর মিলছে।