প্রধানমন্ত্রী কাল চার দিনের সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী কাল চার দিনের সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল সোমবার চার দিনের সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সফরসঙ্গী হিসেবে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ পারস্পরিক বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরবে ঢাকা। আগামী ১২ মার্চ দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

জানা গেছে, সফরকালে ৮ মার্চ নারী দিবসে আরব আমিরাতে আয়োজিত একটি হাই-লেভেল প্যানেল আলোচনা এবং দুবাই এক্সপোর আনুষ্ঠানিক প্রোগ্রামে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এক্সপোয় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনসহ আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এ ছাড়া দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠকেরও কথা রয়েছে তার।

প্রধানমন্ত্রীর সফর বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অনেক দিন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সফর হচ্ছে না। আমিরাতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শ্রমবাজার, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দুদেশের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে। এগুলো কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টাই আমরা করছি। আশা করছি সফরে এসব বিষয় থাকবে। বিশেষ করে বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ যেন আসে।

মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, বন্দর ব্যবস্থাপনা, জ্বালানিসহ আরও কয়েকটি খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী আরব আমিরাত। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, পতেঙ্গা টার্মিনাল এবং বে টার্মিনাল উভয় জায়গাতে কাজ করতে আগ্রহী দুবাইয়ের বড় কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে সপ্তাহে ৪০টির বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে আরব আমিরাতের একাধিক এয়ারলাইন্স। তারা এখন আরও ফ্লাইট বাড়াতে চায়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা চাই তারা গন্তব্যের সংখ্যাও বৃদ্ধি করুক। এতে বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলের লোকেরা উপকৃত হবে। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন আরব আমিরাত সফরকালে খাদ্য রপ্তানির বিষয়ে আলোচনা করেছেন উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, তারাও এ ব্যাপারে আগ্রহী।

তবে তারা যে বিষয়গুলো নিশ্চিত হতে চায়, সেটি হচ্ছে- টেকসই জোগান এবং যদি কখনো খাদ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ। তবে যেন তাদের আগে থেকে জানানো হয় এবং সময় দেওয়া হয়। আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপে ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ করে আরব আমিরাত। এসব ফার্মে বাংলাদেশি কৃষক ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানান।