প্রমাণ হয়ে গেছে, বাংলাদেশে সাহিত্যচর্চা হইতে বৈদেশে পিজা বানানো উত্তম

সংগ্রহীত

প্রমাণ হয়ে গেছে, বাংলাদেশে সাহিত্যচর্চা হইতে বৈদেশে পিজা বানানো উত্তম

একটা ইজি ক্যাল্কুলেশন বোঝাই।

একমাত্র হুমায়ূন আহমেদ স্যার ছাড়া এ জীবনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোন লেখক, লেখালেখি করে বড়লোক হতে পারেননি। স্যারও সেই অর্থে ধনাঢ্য বড়লোক হননি। মোটামুটি বড়লোক হয়েছিলেন।

আমার প্রথম বই বিক্রি হয়েছিলো (আমার জানা মতে) দুই এডিশন। আমি রয়্যালটি কত পেয়েছিলাম জানেন? ২৬ হাজার টাকা মাত্র। 

দেশে আমার ড্রাইভার-এর মাসিক বেতন ২০ হাজার টাকা। আর বইমেলা যাওয়া আসা, শাড়ি গয়না, মোড়ক উন্মোচন ভুংভাং সব মিলিয়ে আমার খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। 

অথচ আমি নিউ ইয়র্কে এসে মাত্র তিন দিন পিজা বানিয়ে পারিশ্রমিক পাই ২৬ হাজার এর বেশি। এইসব ক্যাল্কুলেশন এর মধ্যে দিয়ে আমাদের দেশের সব লেখককে যেতে হয়। তাই মানুষ লেখালেখি বাদ দিয়ে অন্য কাজ করে। 

যেমন আমার এবার লেখকদের স্বপ্নের প্রকাশনী অন্য প্রকাশে উপন্যাস দেবার কথা ছিল। আমি হিসাব করে বের করেছি তার থেকে পিজা বিক্রি করা সহজ ও লাভজনক তাই প্রায় সমাপ্ত উপন্যাসটাও আর শেষ করিনি।

জলি আপার ঠ্যালা খেয়ে কবিতার বই একটা পাণ্ডুলিপি দিলাম।অতীতের অভিজ্ঞতার কারনেই আমার নিজের কোন ব্যাবসায়ী একপেক্টেশন এই বই থেকে নাই। শুধু জলি আপার লস না হলেই আমি খুশী। 

জানি দেশে লক ডাউন। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ এর মনে আরো বেশি লকডাউন।

এইবার তো অল্পকিছুদিনের জন্য এসেছিলাম। এরপরে একেবারে লোটাকম্বল নিয়ে দেশত্যাগ করব। 

কারণ শিল্প সাহিত্য চর্চা করে জীবিকা নির্বাহের দেশ বাংলাদেশ না।

উদাহরণ সহ প্রমাণ হয়ে গেছে যে, দেশে সাহিত্যচর্চা হইতে বৈদেশে পিজা বানানো উত্তম…!!

রাখী নাহিদ, নিউইয়র্ক (ফেসবুক থেকে নেয়া)