প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের ক্লাস হবে দুই ভাগে

প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের ক্লাস হবে দুই ভাগে
বাচ্চাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে স্কুল খুললে শ্রেণিভিত্তিক আলাদা আলাদা করে ক্লাস নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সচিবলায়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই ভাগে হবে প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের ক্লাস। এরমধ্যে থ্রি-ফোর-ফাইভ সপ্তাহে দুইদিন করে ক্লাস নেওয়ার প্ল্যান আছে। আর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস সপ্তাহে একদিন একদিন করে নেয়া হবে। এভাবে আমরা করতে চাচ্ছি। আমাদের কারিকুলাম অনুযায়ী সর্ট একটা সিলেবাসও চিন্তা ভাবনা করছি।

সমাপনী পরীক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সমাপনী পরীক্ষা সশরীরে হবে নাকি মূল্যায়ন ভিত্তিক হবে এ সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি অনুযায়ী নেওয়া হবে। এ রকম যদি পরিবেশ থাকে তাহলে পরীক্ষা না নিয়ে আমরা গতবার যেভাবে মূল্যায়ন করেছি সেভাবে করব। আমরা তো ওয়াক শিট দিচ্ছি। এই ওয়াক শিটগুলোই আমরা মূল্যায়ন করব। এই শিট অনুযায়ী বাচ্চারা কে কি করল, সেভাবেই আমরা মূল্যায়ন করব।

স্কুল খুললে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই। আমরা যদি স্কুল খুলতে পারি তাহলে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরীক্ষা নেব।

স্কুল খোলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যদি পরিবেশ ভালো থাকে তাহলে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরেও আমরা স্কুল খুলে দিতে পারি। যে কোনো দিন স্কুল খোলার জন্য আমরা প্রস্তুত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেই আমরা স্কুল খুলে দিব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এরইমধ্যে ৮৫ ভাগ শিক্ষকদের করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত শেষ করা হবে।
এরআগে গতকাল সোমবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘কীভাবে, যত তাড়াতাড়ি স্কুল-কলেজ খোলা সম্ভব তা নিয়ে শিগগিরই আপনাদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে বসবে।  পাবলিকলি বলে দেবে (কবে থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে)।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এর আগে সচিব সভায় নির্দেশনা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আজকেও কথা হয়েছে। তারা প্রোগ্রাম ঠিক করছে- কীভাবে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব…তারা আপনাদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে বসবে। পাবলিকলি বলে দেবে (কবে থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে)।’
এরআগে করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এক সচিব গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার ব্যবস্থার কথা বলেছিলাম। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয় দ্রুত সময়ে স্কুলগুলোও খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। কারণ, শিশুরা ঘরে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তারা মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে।’
এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে ওইদিনই শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়। এরপর ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ পর্যন্ত গত ১৭ মাসে দফায় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি বাড়ানো হয়। করোনা সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় সবশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান সাধারণ ছুটি আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর।