প্রাণবিক বন্ধু সম্মাননা পেলেন জয়া আহসান

প্রাণবিক বন্ধু সম্মাননা পেলেন জয়া আহসান
জয়া আহসান পথ প্রাণীদের জীবন বাঁচাতে সব সময় সক্রিয় ভূমিকা করেছেন। জয়ার পশুপ্রেমের কথা তার ভক্তদের কাছে অজানা বিষয় নয়। এবার পশুপ্রেমের জন্য জয়া পেয়েছেন ‘প্রাণবিক বন্ধু ২০২১’ সম্মাননা।

শনিবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মিলনায়তনে জয়ার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার প্রদান করল পশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন দ্য পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার (পাও)।

জয়া আহসানসহ মোট ১১ জনকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, বিশেষ অতিথি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, চিত্রশিল্পী কনক চাঁপা চাকমা, শিল্প সমালোচক মইনুদ্দিন খালেদ।

আমি বিরাট কোনো সম্মাননার যোগ্যতায় গিয়ে পৌঁছাতে পেরেছি, সে রকম করে নিজেকে কখনো ভাবতেই পারিনি। তারপরও দেশে বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিছু সম্মাননা আমাকে জানিয়েছেন, তা নিশ্চয়ই তাদের ভালোবাসার জোরে। কিন্তু যে সম্মাননা ‘প ফাউন্ডেশন’ আমাকে দিলেন, সেটা আমার হৃদয়ের একেবারে গভীরের একটা বিষয়ে। তাদের দেওয়া ‘প্রাণবিক বন্ধু’ সম্মাননায় আমি অসম্ভব বিহ্বল।
মানুষ প্রকৃতির সন্তান। আবার মানুষ প্রকৃতিকে ছাপিয়েও উঠেছে। চেতনা পেয়েছে বলেই আমরা নেহাত জীব হয়ে থাকিনি। আমরা মানুষ হয়ে উঠেছি। আমরা স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন অর্জনের জন্য জীবন বাজি রাখি, অন্যকে ভালোবেসে নিজেকে বিলিয়ে দিই, ভবিষ্যতের মানুষের জন্য নিজেকে সংযত রাখি।
তাই আমাদের দায়িত্ব আছে। মানুষ হিসেবে প্রকৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্যের প্রতি আমাদের এ দায় জন্মগত। আমরা সেটি ভুলে যেতে পারি না। আমরা প্রকৃতিকে ছাপিয়ে উঠেছি, কিন্তু প্রকৃতিকে পার হয়ে যাইনি। সেটা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এই পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখার দায় আমাদের। পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখার একটাই উপায়—আমাদের রিপু শাসন করে, আমাদের রাক্ষুসে খিদে কমিয়ে পৃথিবীকে সবুজ করে রাখা। সবুজ মানে গাছ, প্রাণী আর মানুষের একাকার পৃথিবী।

পৃথিবীকে সবুজ করে রাখা, কথাটা শুনতে সহজ, কিন্তু এর দায় অনেক বড়, প্রত্যেকের এবং কঠিন। আমার, আপনার, সমাজের, সরকারের, পৃথিবীর বড় বড় করপোরেশনের, বিশ্বনেতাদের। আমাদের কোনো কোনো প্রাণী অরণ্যবাসী। কোনো কোনো প্রাণী নাগরিক, মানুষের মমতার ওদের জীবন বেঁচে আছে। করোনার দুঃসময়ে কুকুরের, বেড়ালের, ঘোড়ার মতো নাগরিক এই প্রাণীদের শোচনীয় দুর্দশা আমরা দেখেছি। আমরা না দেখলে ওরা বেঁচে থাকবে না। এখানে আমাদের দায়িত্ব আছে। আমাদের দেশে বাণিজ্যমুখী বনবিভাগ আছে, কিন্তু পরিবেশমুখী প্রাণীমুখী প্রাণসম্পদ বিভাগ নেই। আমি এটি প্রতিষ্ঠার দাবি করছি।

আমরা যদি আমাদের সন্তানদের জন্য পৃথিবীকে নিশ্বাস ফেলার উপযোগী করে রেখে যেতে চাই, তাহলে পৃথিবীর যে মৃত্যুঘণ্টা ক্ষীণভাবে বাজছে, তার আওয়াজ সবাই কান পেতে শোনার চেষ্টা করুন। ‘প ফাউন্ডেশন’কে ধন্যবাদ। আপনাদের সবাইকে ভালোবাসা।