ফাটল ধরেছে উত্তর মেরুর সবচেয়ে প্রাচীন বরফখণ্ডে, বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ফাটল ধরেছে উত্তর মেরুর সবচেয়ে প্রাচীন বরফখণ্ডে, বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আর্কটিক বা উত্তর মেরুর প্রাচীনতম ও সবচেয়ে পুরু বরফখণ্ডে প্রকাণ্ড এক গর্ত চোখে পড়েছে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের। ওই অংশটিই সবচেয়ে স্থিতিশীল বলে ধারণা ছিল বিজ্ঞানীদের। ফলে প্রাচীন ওই বরফখণ্ডটিতে ভাঙন দেখায় শঙ্কায় পড়ে গিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। খবর ইউএসএ টুডের।

উত্তর মেরুর সুনির্দিষ্ট ওই বরফখণ্ডটিকে ‘লাস্ট আইস অফ আর্থ’ বা, পৃথিবীর শেষ অক্ষত বরফ-চাদর বলা হয়ে থাকে। ওই বরফের চাদরে ফাটল ধরে একটি ফাঁকা অংশ তৈরি হয়েছে, যার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এই ধরণের ফাটলকে পলিনিয়া বলা হয়ে থাকে।

গত বছরের মে মাসে লাস্ট আইস এলাকার অন্তর্ভুক্ত কানাডার এলসমেয়ার আইল্যান্ডে বরফের মাঝে ওই পলিনিয়া চিহ্নিত হয় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের অনুমান, উত্তর মেরুর জোরালো অ্যান্টিসাইক্লোনিক হাওয়ার জেরে পলিনিয়াটি তৈরি হয়েছিল। পরে সেটি বুজে গেলেও মেরুর ওই অংশ যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের কোন সন্দেহ নেই।

গত আগস্ট মাসে জিয়োফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারসে এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ওই গবেষণায় ১৯৮৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এমন বেশ কিছু পলিনিয়া তৈরির খবর বিজ্ঞানীদের কাছে রয়েছে বলেও জানানো হয়। উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে সেই ছবি।

গবেষণার মূল গবেষক কেন্ট মুর জানান, ওই অংশে সমুদ্রের ওপর বরফের চাদর প্রায় ১৩ ফুট পুরু। অন্তত পাঁচ বছরের জমা বরফ। কিন্তু এই অংশও যে বিপন্ন হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট। ২০২১ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডে প্রতিবছর আরো দ্রুত বরফ গলে যাচ্ছে।

এভাবে চললে এই শতকের শেষে লাস্ট আইস পুরো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের।