বনানীর বাসায় ফিরলেন পরীমনি

বনানীর বাসায় ফিরলেন পরীমনি
জামিনে মুক্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে বনানীর বাসায় ফিরেছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনি। দীর্ঘ ২৮ দিন পর বাসায় ফিরেছেন এ নায়িকা।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে পরীমনিকে বহনকারী গাড়িটি তার বাসভবনের সামনে পৌঁছায়। ঠিক দুপুর ১টায় সাদা রঙের গাড়ি থেকে নামেন পরীমনি। তার হাতে ফুলের তোড়া দেখা গেছে। এ সময় তার আইনজীবী নিলাঞ্জনা রিফাত সুরভী গাড়িতে ছিলেন। গাড়ি থেকে নেমে সোজা লিফটে উঠে যান পরীমনি।

পরীমনির আইনজীবী নিলাঞ্জনা রিফাত সুরভী উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বিষয়টি বিচারাধীন আছে। আদালতেই মামলাটি নিষ্পত্তি হবে। এ বিষয়ে আমাদের আর কিছু বলার নেই। পরীমনি মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত আছেন।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্ত হন পরীমনি। ১৯ দিন পর কারাজীবন থেকে মুক্তি পেয়েছেন এ নায়িকা।

কারাফটকে পরীমনিকে বহন করা গাড়িটি আসার সঙ্গে সঙ্গে ঘিরে ধরে উৎসুক জনতা। পরে গাড়ির সানরুফ খুলে দাঁড়িয়ে পড়েন পরীমনি। উৎসুক জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তে দেখা যায় তাকে। এ সময় হাত মেলানো এবং সেলফিও তুলেছেন পরীমনি। তার চোখে ছিল উচ্ছ্বাস, মুখে সেই চিরচেনা হাসি।

এর আগে সকাল ৯টা ২১ মিনিটে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর কাছে পরীমনিকে হস্তান্তর করেন কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ। সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটের দিকে কারাগার থেকে বের হন এ নায়িকা। এ সময় কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন তার খালু মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

৪ আগস্ট পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। পরদিন বনানী থানায় মাদক মামলা দায়ের হয় পরীমনির নামে। ওইদিনই আদালতে তোলা হয় এ নায়িকাকে। সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত চার দিন মঞ্জুর করেন। এরপর তিন দফায় সাত দিনের রিমান্ডে ছিলেন পরীমনি।

উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) পরীমনির জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়। শুনানি শেষে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পরীমনির জামিন আদেশ দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ।

আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরীমনির আইনজীবীরা। আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনির আইনজীবী মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ’আপাতত পরীমনির মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। আমরা আমাদের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা চেষ্টা করব আজকেই তাকে জেলহাজত থেকে মুক্ত করার।’

কিন্তু গতকাল সময়মতো আদেশের কপি কারাগারে না যাওয়ায় পরীমনিকে মুক্ত করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ। নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কাগজপত্র কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হয়। আদালত থেকে নথিপত্র নিয়ে রওনা হলেও সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। তাই বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে মুক্ত হয়েছেন পরীমনি।