বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান
বলিউডে এত উপাধি, এত সম্মাননা, এত আয়ের তারকা বলতে একজনই। তিনি হলেন শাহরুখ খান। যাঁর অভিনয়ের দ্যুতি শুধু ভারতে নয়, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েছে। তাঁর অজানা যত চলচ্চিত্র আর ব্যক্তিজীবনের কথা তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

প্রথম অভিনীত ছবি ইংরেজি
শাহরুখ খানের প্রথম অভিনীত ছবি একটি ইংরেজি টেলিফিল্ম, যার নাম ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট টু দোজ ওয়ানস’। ছবিটি নির্মাণ হয় ১৯৮৯ সালে। এতে তিনি ছোট একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এই ছবিটির চিত্রনাট্য লেখিকা অরুন্ধতী রায়। তিনিও এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি দুটি ন্যাশনাল আওয়ার্ড পায়।

যত উপাধি
বলিউডের বাদশাহ, বলিউডের কিং, কিং খান, বাদশাহ খান, কিং অব বলিউড, কিং অব রোম্যান্স হিসেবে পরিচিত শাহরুখ খান। শুধু বলি দুনিয়ায় নয়, বিশ্বের কোনো দেশে এত উপাধি আর কোনো তারকার জীবনে জুটেনি। বিশ্বব্যাপী তাঁর অপ্রতিরোধ্য জনপ্রিয়তার সম্মান এসব উপাধি।

যত পুরস্কার
অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন,  রয়েছে চৌদ্দটি ফিল্মফেয়ার, যার আটটিই শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার। ২০০৫ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মশ্রী, ফ্রান্স সরকার ২০০৭ সালে অর্দ্র দে আর্ত এ দে লেত্র ও ২০১৪ সালে ফরাসি লেজিওঁ দনরের পঞ্চম পদ শ্যভালিয় খেতাব প্রদান করে। পাঁচটি সম্মানসূচক ডক্টরেট; প্রথমটি ২০০৯ সালে বেডফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, দ্বিতীয়টি ২০১৫ সালে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, তৃতীয়টি ২০১৬ সালে মওলানা আজাদ জাতীয় উর্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, শেষ দুটি ২০১৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব ল ও লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

ভক্ত ও সম্পদের পরিমাণ
এশিয়া ও বিশ্বব্যাপী তাঁর প্রায় ৩.২ বিলিয়ন ভক্ত রয়েছে এবং তাঁর মোট অর্থসম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি রুপিরও বেশি। ওয়েলথ-এক্স সংস্থার বিচারে বিশ্বের সবার থেকে ধনী হলিউড, বলিউড তারকার তালিকায় শাহরুখ খানের স্থান দ্বিতীয়। দর্শক ও আয়ের দিক থেকে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে অভিহিত করা হয়।

কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন শাহরুখ। মাত্র চার পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান তিনি। তাঁর প্রিয় উক্তি হলো- ‘ঘুমানো মানে জীবন নষ্ট করা’।

কেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি?
অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের পরও শাহরুখ খান কেন এখনো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি? এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রখ্যাত ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক, ভ্রমণপিপাসু প্রবাসী বাঙালি প্রত্যয় ম. অধিকারীর আক্ষেপ ‘শাহরুখ খান একজন অত্যন্ত দক্ষ অভিনেতা, যিনি নায়ক হওয়ার চক্করে পড়ে, নিজের অভিনয় ক্ষমতার প্রতি সুবিচার করে উঠতে পারেননি। যদি নব্বইয়ের দশকে ফিরে যাই, তাহলে কিন্তু দেখতে পাই শাহরুখ বেশ কিছু অন্যরকম অভিনয় করেছেন, যেগুলো যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। এই ছবিগুলোর মধ্যে বাজিগর (১৯৯৩) বা ডর (১৯৯৩) বাণিজ্যিক সাফল্য বেশি পেলেও, কভি হাঁ কভি না (১৯৯৪), আনজাম (১৯৯৪)-এর মতো ছবিগুলো অনেকাংশেই উপেক্ষিত। এই সময়ের অনেক জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনয় দেখলে চোখে জল আসে, কারণ এতটাই মধ্যমানের সে অভিনয়। উদাহরণস্বরূপ ২০০০ সালের অনিল কাপুর (পুকার ছবির জন্য) এবং ১৯৯৮ সালের অজয় দেবগন (জখম ছবির জন্য)- এই দুটো পারফরমেন্সের কথা বলা যায়। তারপর ২০০০ সালের পরবর্তী সময় শাহরুখ, স্বদেশ (২০০৪), চক দে ইন্ডিয়া (২০০৭), বীর-জারা (২০০৪), পহেলি (২০০৫), মাই নেম ইজ খান (২০১০)- এরকম বেশ কয়েকটা ভালো ছবি করলেও, শেষ অবধি শিকে ছিঁড়েনি। এই প্রতিটা ছবিতেই শাহরুখের অভিনয়দক্ষতা চোখে পড়ে। এর মধ্যে উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে শাহরুখ খানকে স্বদেশ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার না দিয়ে দেওয়া হয় সাইফ আলী খানকে, তাও আবার হাম তুম ছবির জন্য। কি লজ্জা! কি লজ্জা! আরও লজ্জাজনক ব্যাপার হলো, সে বছর জাতীয় পুরস্কারের বিচারকদের অন্যতম ছিলেন শর্মিলা ঠাকুর, সাইফের মাতাদেবী, স্বয়ং। বলতে গেলে, ব্যাপারটা হাইলি সাসপিশাস।

হিন্দি জানতেন না
পেশোয়ারে বেড়ে ওঠায় দিল্লিতে এসে স্কুলে পড়ার সময় শাহরুখ হিন্দিতে খুব একটা দক্ষ ছিলেন না। তবে একবার হিন্দি পরীক্ষায় দশে দশ পেয়েছিলেন তিনি। এতে পুরস্কার হিসেবে তাঁর মা সিনেমা দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁকে।

প্রথম রোজগার ৫০ টাকা
শাহরুখ খানের প্রথম রোজগার ছিল ৫০ টাকা। গায়ক পঙ্কজ উদাসের একটা কনসার্টে কাজ করে সেই টাকা পেয়েছিলেন। প্রথম রোজগারের টাকা দিয়ে ট্রেনের টিকিট কেটে শাহরুখ আগ্রা গিয়েছিলেন।

ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীতে যোগদান
ছোটবেলা থেকেই শাহরুখ খানের ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। কলকাতার আর্মি স্কুলে ভর্তিও হয়েছিলেন শাহরুখ, কিন্তু ছেলেকে ছাড়তে রাজি হননি তাঁর মা। ফলে  সে ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি তাঁর।

প্রথম হিন্দি সিরিয়াল
১৯৮৯-৯০ সালে রেণুকা সাহানের সঙ্গে ‘সার্কাস’ সিরিয়ালে কাজ শুরু করেন শাহরুখ। সে সময় তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মাকে ধারাবাহিকটার একটা পর্ব দেখানোর জন্য বিশেষ অনুমতি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর মা তখন এতটাই অসুস্থ যে, ছেলেকে চিনতেও পারেননি। ১৯৯১ সালের এপ্রিল মাসে মৃত্যু হয় শাহরুখ খানের মায়ের।

প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্র
১৯৯১ সালে প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন শাহরুখ। সেটি ছিল হেমা মালিনী পরিচালিত ‘দিল আসনা হ্যায়’। তবে নায়ক হিসেবে শাহরুখকে প্রথম দেখা যায় ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ ছবিতে।

টুইটার ফলোয়ার
শাহরুখ খানের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩ কোটি ফলোয়ার রয়েছে।