বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক

সংগ্রহীত

বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শনের লক্ষ্যে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে সফর করছেন। এ ধারাবাহিকতায় হাইকমিশনার ইমরান আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন এ তথ্য জানায়।

বৈঠকে মোহাম্মদ ইমরানের সঙ্গে গৌহাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার ও বাংলাদেশ হাইকমিশন নয়াদিল্লির প্রথম সচিব উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় হাইকমিশনার দু’দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের পথে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে অনেক সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমান উন্নয়নচিত্র সম্পর্কে আসামের জনগণকে পরিচিত করাতে এবং দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এবং ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে এ দুই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপনের প্রতি বাংলাদেশ হাইকমিশনার জোর দেন। ’

মুখ্যমন্ত্রী সোনোয়াল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানো ও বাণিজ্য জটিলতা নিরসনে দু’দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধি ও আমদানি রপ্তানির সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক ও যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এর আগে মোহাম্মদ ইমরান গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তামাবিল শুল্ক স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন কেন্দ্র পরির্দশন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, তামাবিল চুনাপাথর, পাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ এবং তাবামিল ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন বধ্যভূমি পরির্দশন করেন ও স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে এবং বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে উজ্জ্বল হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে। ভারতের আসামসহ উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবস-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে দু’দেশের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে ভারতে আমাদের মিশনগুলো আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ’

তিনি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এদিন হাইকমিশনার মেঘালয়ের ডাউকী শুল্ক স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন কেন্দ্র পরির্দশন করেন এবং স্থানীয় ভারতীয় ব্যবসায়ি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এছাড়া, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ভারতের প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন।

হাইকমিশনার শিলংয়ে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা ও মেঘালয় সফররত ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া, মেঘালয়ের প্রাদেশিক সভার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গেও হাইকমিশনারের দেখা করেন। এর আগে হাইকমিশনার ইমরান আসামের গভর্নর জগদীশ মুখী মেঘালয়ের গভর্নর সত্য পাল মালিকে ও উপমুখ্যমন্ত্রীর প্রেস্টন টিনসংয়ের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।