‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের ২৮ নাবিক ফিরছেন কাল

‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের ২৮ নাবিক ফিরছেন কাল

ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের ২৮ নাবিক আগামীকাল মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন। জাহাজটির দ্বিতীয় ইঞ্জিনিয়ার রবিউল আউয়ালের ভাই জাকির হোসেন গতকাল রবিবার আমাদের সময়কে বলেন, মঙ্গলবার আমার ভাইসহ ২৮ নাবিক দেশে ফিরবেন। জাহাজটির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার নিহত হাদিসুর রহমানের মরদেহও ইউক্রেন থেকে দেশে আনার চেষ্টা চলছে।

এদিকে যুদ্ধকবলিত ইউক্রেনের দুটি শহরে ১১ বাংলাদেশি এখনো আটকা আছেন। তাদের নিরাপদে সরাতে কাজ করছে পোল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস। এ ছাড়া অভিবাসী ক্যাম্পে আটকা ৫ বাংলাদেশিকেও ফেরানোর চেষ্টা চলছে। যদিও তারা যাতে ইউক্রেন ত্যাগ করতে পারেন, সে জন্য আগে থেকে তাদের ট্রাভেল পাস ছিল বলে জানা গেছে।

গতকাল রাতে পোল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন  বলেন, ইউক্রেনের দুই শহরে ১১ জনের মতো বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছি। এ ছাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে যে ৫ বাংলাদেশি আছেন, তাদেরও কীভাবে নিরাপদে সরানো যায় সেই চেষ্টা চলছে। এই পাঁচজন যাতে ইউক্রেন ছাড়তে পারেন, সে জন্য ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয়েছিল। ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার নিহত হাদিসুর রহমানের মরদেহ আনার চেষ্টা চলছে।

গতকাল ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, হাদিসুর রহমানের মরদেহ ইউক্রেন থেকে আসতে আরও কিছু সময় লাগবে। মরদেহ নিরাপদ জায়গায় রাখা আছে। একটু সময় লাগবে, তবে তারা পাঠাবে।

২৮ নাবিক রোমানিয়ায়

‘বাংলার সমৃদ্ধি’র ২৮ নাবিক ইউক্রেন থেকে গতকাল দুপুরে নিরাপদে রোমানিয়া পৌঁছেছেন। সে দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী বলেন, নাবিকদের এখন দেশে ফেরানো হবে। সূত্র জানায়, রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টের হোটেলে অবস্থান করছেন নাবিকরা। তাদের ফেরাতে কাজ করছে বুখারেস্টে বাংলাদেশ দূতাবাস।

গত বুধবার ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দর জেটির অদূরে নোঙর করে রাখা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। গোলার আঘাতে নিহত হন হাদিসুর রহমান। হামলার ২৪ ঘণ্টার মাথায় গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় নাবিকদের টাগবোটে করে বন্দরের বাইরে একটি শেল্টার হাউসে নেওয়া হয়। সেখানে ৩৯ ঘণ্টা কাটানোর পর গত শনিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নাবিকরা বাসে ওঠেন। প্রতিবেশী দেশ মালদোভা সীমান্ত হয়ে গতকাল সকালে তারা রোমানিয়া পৌঁছান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, শিগগির ২৮ নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

এদিকে অবৈধভাবে ইউক্রেনে প্রবেশ করে বন্দি হওয়া পাঁচ বাংলাদেশি সেখানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। এক ভিডিওবার্তায় তাদের এই আকুতি প্রকাশের পর গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, আটকদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ মিশন আরও তথ্য সংগ্রহ করছে জানিয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যতদূর জানা যায় এরা রাশিয়ায় খেলা (২০১৮-এর ফুটবল বিশ্বকাপ) দেখতে গিয়েছিল। খেলার জন্য গিয়ে ইউক্রেনে যাওয়ার উদ্দেশ্য হলো, এরা অন্য কোনো দেশে যাবে। অবৈধভাবে থাকায় ইউক্রেন সরকার তাদের গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন সেন্টারে রেখে দিয়েছে। ওই ডিটেনশন সেন্টারে তারা এখানেও আছে। এ পর্যন্ত আমরা এটুকু জেনেছি।

তিনি বলেন, আমরা আরও (তথ্য) পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। তাদের সঙ্গে আমাদের সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু আমাদের মিশন ওখানে কাজ করছে। ওখানে আমাদের সহযোগী যারা আছেন, তারা আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আমরা তথ্য সঠিক হলে পরে তাদেরও দেশে ফেরত আনার চেষ্টা চালাব। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ইউক্রেনে এক হাজার বাংলাদেশি ছিলেন বলে ধারণা করছি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই চলে এসেছেন। আমাদের জানামতে, শ’খানেকের মতো এখনো আছেন।