বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় যা বললেন ফখরুল

সংগ্রহীত

বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় যা বললেন ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় উৎসবের দিনে ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের যৌথ হামলা ও হত্যার ঘটনা বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের আরও একটি জঘন্য দৃষ্টান্ত। হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনীর নির্মম হামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজনের প্রাণহানি, অসংখ্য জন গুরুতর আহত এবং বায়তুল মোকাররমে পুলিশের পৈশাচিক হামলায় সাধারণ মুসল্লিরা গুরুতর আহত হয়েছেন।’

শুক্রবার (২৬ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,‘স্বাধীনতা দিবসের মতো উৎসব ও আনন্দের দিনে যেখানে রাজপথে ফুল ছিটানোর কথা, সেখানে রাজপথে রক্ত ঝরানো হলো। এই নির্মম ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। স্বাধীন দেশে যেকোনো কর্মসূচি পালন করার বা যেকোনো বিষয়ে স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার অধিকার সকল নাগরিকের আছে। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মুহূর্তে বলতে হচ্ছে, স্বাধীন দেশে জনগণ আজ যেন পরাধীন। জনগণের সব গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়ে সরকার দেশে নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করেছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা রক্তের নিষ্ঠুর হোলিখেলা চলছে।’

আওয়ামী লীগ জনগণের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিরোধী দল ও বিরুদ্ধ মতের সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত ও অমানুষিক নির্যাতন এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আওয়ামী সরকার যেন জনগণের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ চালাচ্ছে। আওয়ামী অবৈধ সরকারের গত ১২ বছরের নিষ্ঠুর শাসনে প্রতিদিন বিরোধী নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত অবস্থায় দিন পার করছে। রাষ্ট্রীয় ও দলীয় ভয়াবহ সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত রেখে রাষ্ট্রক্ষমতা ধরে রাখতে দেশ যেন এখন গুম, খুন, অপহরণ ও নির্যাতন-নিপীড়নের ভয়াল উপত্যকায় পরিণত হয়েছে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই আওয়ামী সরকার জনগণকে তোয়াক্কা করে না, জনগণের ভালমন্দ বিচার কিংবা জনগণের আবেগ-অনুভূতিকে গুরুত্ব দেয় না। আওয়ামী সরকার তাদের নিজের হাত রক্তে ভেজাতে দ্বিধা করে না। আজ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারের নির্দেশে পুলিশ ও সরকারদলীয় সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসীদের দ্বারা নির্দয়, অমানবিক ও কাপুরুষোচিত হামলা, গুলিবর্ষণ করে পাঁচজন নিরীহ মানুষকে হত্যা ও অসংখ্য মানুষকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় ধিক্কার জানাই। এসব অপকর্মের জবাব দেয়ার জন্য আওয়ামী ভোটারবিহীন সরকারকে অবশ্যই একদিন জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। জনগণ এই বর্বর আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। আমি গুলিতে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।’