বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার

বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার (১ সেপ্টেম্বর)। ১৯৭৮ সালের এদিনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের অনুসারীদের এক মঞ্চে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বিএনপি।

১৯৮১ সালের ৩০ মে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া গত ৩৯ বছর ধরে বিএনপির হাল ধরে আছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর নিছক একজন গৃহবধূ থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা সেই নেত্রী এখন নিজ বাসায় অনেকটা একাকী সময় কাটাচ্ছেন। তাকে ছাড়াই ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবে বিএনপি।

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া তারেক রহমানও দীর্ঘদিন লন্ডন প্রবাসী। এমন পরিস্থিতিকে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ‘নাজুক’ হিসেবে উল্লেখ করলেও দলটির সবচেয়ে বড় সফলতা হলো—দেশের অন্যতম বড় দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এখনও বিএনপিই।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতে, বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য বহু বছর ধরে যারা চেষ্টা করে আসছে, দলটির ৪৩ বছর পূর্তি তাদের জন্য নতুন একটি বার্তা। এ দলের বিরুদ্ধে বহু ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তবে দল ফিনিক্স পাখির মতো আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। জিয়াউর রহমানের আদর্শে অবিচল না থাকলে অন্য অনেক দলের মতো বিএনপিও হারিয়ে যেতো। কিন্তু ১৫ বছর ধরে চরম অন্যায়-অত্যাচার ও নিপীড়নের পরও বিএনপি টিকে আছে, এটাই বাস্তবতা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের সব প্রয়াত-নিহত নেতাকর্মীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।

অনুরূপ এক বাণীতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ থেকে ৪৩ বছর আগে দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষকে একদলীয় দুঃশাসনের অন্ধকার যুগ থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। আমি তার প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। বারবার দেশ ও গণতন্ত্রের সঙ্কটকালে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে জুলুম-নির্যাতনকে সহ্য করেও দুর্বার আন্দোলনে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন আমি সেই অদম্য সাহসের প্রতীক বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। এদিনে দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত যেসব নেতারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের প্রতিও জানাই গভীর শ্রদ্ধা। বিএনপিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে এখন পর্যন্ত যেসব নেতাকর্মীরা আত্মদান করেছেন তাদের প্রতিও জানাই আমার অকৃত্রিম শ্রদ্ধা।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর’২০২১) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ শুভ দিনে আমি দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের জনগণকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্যই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে হয়রানির খড়গ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার শিকার। কারণ তিনিই গণতন্ত্রের প্রতীক এবং জনগণের নাগরিক ও বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতার পক্ষে প্রধান কণ্ঠস্বর। পাশাপাশি দেশের যে কোন ক্রান্তিলগ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এদিনে আমি দেশবাসীকে দলের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাই।

কর্মসূচি: বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন। বেলা ১১টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতারা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

দুপুর ১২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহযোগিতায় হেলথ ক্যাম্প এবং করোনা রোগীদের জন্য ওষুধ ও করোনা সামগ্রী বিতরণ। সেই সঙ্গে সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশ।

২ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার), ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সকাল ১০টায় বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা।

সারাদেশের কর্মসূচি: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার সারাদেশে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসহ বিভিন্ন ইউনিট কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভাসহ অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা উদযাপন করা হবে।