বিএনপি নির্বাচনের অর্থ বোঝে না :একেএম এনামুল হক

বিএনপি নির্বাচনের অর্থ বোঝে না :একেএম এনামুল হক

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে বলেছেন, তারা আসলে নির্বাচনই চায় না। তারা নির্বাচনের অর্থ বোঝে না। ভোট চুরি করতে জানে, কিন্তু জনগণের ভোট নিতে জানে না। সে কারনে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াকে প্শ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।

আজ শনিবার সকালে শরীয়তপুরের সখিপুরের চারভাগা পাইকবাড়ী আমেনা রওশন হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে নড়িয়া উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সার্চ কমিটিতে নিজেরা নাম না দিয়ে অন্যদের দিয়ে তাদের পছন্দের নাম ঠিকই দিয়েছে। অথচ জাতির সামনে পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। তারা সোজাপথে হাটতে পারে না, সবসময় চোরাগলি খোঁজে। কিন্ত জনগণ সেই সুযোগ দিচ্ছে না বলে বিএনপির নেতারা পাগলের প্রলাপ করছেন।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, বিএনপি ভোট চুরি, দেশের অর্থ পাচারের এবং গুজবের চ্যাম্পিয়ান। তারা কখনো আয়নায় নিজের চেহারা দেখে না যে এই বিএনপির প্রতিষ্ঠা কার হাত দিয়ে, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাত দিয়ে। জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়ার কোনো অভ্যাসই তাদের ছিল না। বরং কেড়ে নেওয়া, চুরি করাই তাদের অভ্যাস ছিল।

বিএনপি গণতন্ত্রের অর্থও বোঝে না বলে মন্তব্য করে উপমন্ত্রী শামীম বলেন, জনগণের অধিকারের অর্থও তারা বোঝে না। সেই শিক্ষাই তাদের নাই। তারা বোঝে সন্ত্রাস, তারা বোঝে দুর্নীতি, তারা বোঝে জঙ্গিবাদ। তারা বাংলা ভাই সৃষ্টি করতে পারে, তারা মানুষ হত্যা করতে পারে, হাত কাটতে পারে, চোখ কাটতে পারে, মানুষের ঘরবাড়ি দখল করতে পারে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় না থাকায়  সেই সুযোগটা পাচ্ছে না বলেই বোধহয় তাদের বেশি আক্ষেপ।

তিনি বলেন, তারা ১৯৯৬ সালে ভোটারবিহীন একটি তথাকথিত নির্বাচন করেছিল। সেই নির্বাচনে ২৭৮টি আসন তারা ঘোষণা দিয়ে রাতের অন্ধকারে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল রশিদকে পর্যন্ত নির্বাচিত করে মহান জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করেছিল। সেই বেহায়ারা আজ আমাদের ভোট শেখায়!

বিএনপির জন্ম সামরিক উর্দির অধীনে-এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, এরা সেই বেহায়া যাদের প্রতিষ্ঠাতা সামরিক ছাউনিতে উর্দি পরে রাজনৈতিক দল গঠন করেছিল। সেই সেনা ছাউনিতে বসে সব সেনা আইন উপেক্ষা করে, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তথাকথিত ‘হ্যাঁ-না’ ভোট করেছিল। তারাই আবার বাংলাদেশের মানুষকে গণতন্ত্র শেখায়, ভোট ব্যবস্থা শেখায়, নির্বাচনব্যবস্থার সবক দেয়!

চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে আপনাদের নির্বাচিত করেছে, তার প্রতিদান দিতে হবে এবং জনগণের সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করে সেবক হয়ে কাজ করতে হবে। সবাই যাতে দ্রুত সময়ে ন্যায় বিচার পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। জন্ম নিবন্ধন, সার্টিফিকেটসহ কোনো সেবা নিয়ে হয়রানি করা যাবে না। আপনাদের সব সময় মাথায় এটাই রাখতে হবে, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো একে একে পূরণ করার জন্য কাজ করতে হবে। গ্রামের তৃণমূলের দ্বোরগোড়ায় সেবা পৌছে দিতে হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, আইন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য এনায়েতউল্যাহ মুন্সী, ভেদরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির মোল্যা, নড়িয়ার ইউএনও শেখ রাশেদুজ্জামান, নড়িয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক মাল, সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান খোকন, সখিপুর থানার সাধারন সম্পাদক আতিকুর রহমান মানিক সরকার, নওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. জাকির হোসেন মুন্সী, মোক্তারের চর ইউপি চেয়ারম্যান বাদশা শেখ, নশাসন ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন তালুকদার, বিঝারী ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ কাজী, ঘড়িষার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব খান, ভোজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার, কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিহির চক্রবর্তী,  ভূমখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, জপশা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মাদবর, রাজনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবু আলেম মাদবর, চামটা ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন রাড়ী, ডিঙ্গামানিক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ সরদার প্রমূখ। এছাড়াও
এসময় নড়িয়া উপজেলার সকল ইউনিয়নের মেম্বার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।