বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত দু-একদিনের মধ্যেই: আইনমন্ত্রী

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত দু-একদিনের মধ্যেই: আইনমন্ত্রী
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত জানানো হবে দু-একদিনের মধ্যেই। এমনটাই জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কে আয়োজিত ‘সিক্সটিন ডেজ অব অ্যাক্টিভিজম এগেইনস্ট জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সবাই মিলে সবার ঢাকা, নারী-পুরুষ সমতা রুখতে পারে সহিংসতা’ প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিএনসিসি।

আইনমন্ত্রী বলেন, নারী-পুরুষ কোনো ভেদাভেদ নেই। আমরা চাই সমাজে সবার অধিকার নিশ্চিত হোক, সমতা আসুক। সারা বিশ্বের মতোই বাংলাদেশেও নারী নির্যাতন আগে ছিল। সেটা বন্ধ করতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক আইন করেছেন। নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইন, আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন করা হয়েছে। এসব আইন করা হয়েছে নারীদের সুরক্ষার জন্য। আইন থাকবে, কিন্তু সামাজিক সমতা না আনলে কিন্তু আমরা সে আইন বাস্তবায়ন করতে পারব না।

এদিকে মঙ্গলবার ২১ ডিসেম্বর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে কোনো নজির খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবেদন করার ১ মাস ১০ দিন পর এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। বলেন, খালেদা জিয়া গৃহবন্দি-যুক্তরাজ্যের এমন প্রতিবেদন ভুল। বাংলাদেশের আপত্তির পর প্রতিবেদনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের চিঠিতে যেখানে ভুল ছিল তা তারাই (যুক্তরাজ্য) সংশোধন করবে বলে জানান মন্ত্রী।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পাঠানো চিঠি প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে যে চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল, তাতে তথ্যের ভুল ছিল। সেই ভুল তথ্যের ব্যাপারে আমার সঙ্গে যখন ব্রিটিশ হাইকমিশনারের দেখা হয়, তখন আমি সেটা পরিষ্কার করেছি।
বলেন, হাইকমিশনারকে পরিষ্কারভাবে আমাদের আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছি এবং খালেদা জিয়া যে মুক্ত এবং তার আইনি অবস্থানটা তাদের বুঝিয়েছি। শেষ কয়েক দিন আগেও আবার আমার সঙ্গে যখন তাদের কথা হয়েছে, তারা সেই বিষয়টা কারেকশন করবে বলেছে।

এদিকে, বরাবরের মতো খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের দাবি- যে আইনে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে সেই আইনে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দিতে পারবে সরকার।
অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রী জানান- দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া সংক্রান্ত কোনো আইন ও নজির খুঁজে পাওয়া যায়নি। খুব শিগগিরই সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
গত জুলাইয়ে মানবাধিকার বিষয়ক এক প্রতিবেদনে খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করে রাখার দাবি করেছিল যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি পরিষ্কার করায় প্রতিবেদন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর আগেও আইনমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিএনপি সমর্থিত ১৫ জন আইনজীবী এসেছিলেন। তাদের বক্তব্যে কোথাও কোনো আইনি সাপোর্ট ছিল না। তারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন কোনো আদালতও সেটা সাপোর্ট করে না বরং আমি যে বক্তব্য সংসদেও দিয়েছিলাম, অনেক রায়ে সেটার সাপোর্ট রয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনার সুযোগ রয়েছে কি না- এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে এটা আইনের দিক দিয়ে দেখতে হবে। কারণ সরকার যখন কোনো পদক্ষেপ নেবে, সেটা অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ হতে হবে।

তিনি বলেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং তার মানবিক পদক্ষেপে যেটা সিদ্ধান্ত ছিল তার অভিব্যক্তি হচ্ছে এ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় তার দ্বন্দ্ব স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন।