বিশ্বকাপ নিয়ে তামিমের সিদ্ধান্ত, যা বললেন মাশরাফী

বিশ্বকাপ নিয়ে তামিমের সিদ্ধান্ত, যা বললেন মাশরাফী

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তামিম ইকবাল। ইনজুরি ও শেষ কয়েকটা সিরিজে খেলতে না পারায় তরুণদের সুযোগ করে দিতে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। তামিমের এমন সিদ্ধান্তে তার প্রশংসা করেছেন টাইগারদের সাবেক ক্রিকেটার মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তামিমের সিদ্ধান্তের খণ্ডায়ন করেছেন তিনি।

মাশরাফী লিখেছেন, ‘নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সেরা একজন ব্যাটসম্যান স্ট্যাটসও তাই বলে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার সব যোগ্যতা তার আছে, ক্রিকেট বোর্ড টিম ম্যানেজমেন্ট সবাই তাকে টিমে রাখবে এটা সবারই জানা। কেন তামিম এ সিদ্ধান্ত নিলো তার যুক্তিও আছে অনেক। প্রথম হলো তামিমের ইনজুরি, তারপর প্রায় এই দিয়ে চারটা সিরিজ সে খেলতে পারিনি তার মানে প্রায় ১৬টা ম্যাচ, এতে করে হঠাৎ কোনো ম্যাচ না খেলে মাঠে নামার পর নিজের উপর নিজের বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে।’

‘যা পরে ওর ওয়ানডে বা টেস্টে ওকে ক্যারি করতে হতে পারে। কথা হলো এখন যারা খেলছে তারা তো রান করেনি, আবার সেখানেও কথা আছে, যে উইকেটে খেলা হচ্ছে সেখানে রিয়াদ ছাড়া আর কোনো দলের খেলোয়াড়ই পঞ্চাশ ছুতে পারেনি। ট্রু ইউকেটে বিচার না করা একেবারেই অন্যায় হবে সৌম্য, লিটন বা নাঈমের সাথে। সমস্ত কঠিন সিরিজগুলো সত্যিই এই ছেলেগুলো পার করছে’, যোগ করেন তিনি।

মাশরাফী আরও লিখেছেন, ‘তামিমের সিদ্ধান্তকে বিচার করা খুব কঠিন কাজ না পুরোটাই পজিটিভভাবে দেখলে সেটা হলো, প্রথমত এটা একান্তই তামিমের সিদ্ধান্ত, এরপর সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা ছিলো তামিম সব সময় ড্রেসিং রুমে ওয়েলকামিং পারসন কিন্তু ১৬টা আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা কোনো প্র্যাকটিস ম্যাচ ছাড়া এবার সে কতটুকু ওয়েলকামিং হতো তা হয়তো তাকে ভাবিয়েছে। আর কেউ না বুঝুক তামিম নিজেও জানে এখন ব্যাটসম্যানরা কেমন উইকেটে ব্যাটিং করছে যেখানে তাদের ভুল থাকলেও তাদের খুব বেশি কিছু করার নাই।’

নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম ম্যাচের উইকেট প্রসঙ্গ সামনে এনে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আজকের ইউকেট তো অস্ট্রেলিয়ার সময়ের ইউকেট থেকেও ভয়ানক স্লো। এর পর কি অপেক্ষা করছে কে জানে। আর এতকিছুর পরও তামিমকে দলে ঢুকার জন্য কারও খারাপ খেলার প্রয়োজনও নাই এটা সবারই জানা কারন, সিম্পলি তামিম দলের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে তামিম তার নিজের সিদ্ধান্ত নিজে ভেবেই নিয়েছে যেটাকে সম্মান জানানো উচিত।’

‘টপ অর্ডারের অস্থিরতাও হয়তো কিছুটা কমবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো কোনো সিদ্ধান্ত মানুষের জীবন পাল্টে দেয়। আমার কাছে মনে হয় এই সিদ্ধান্তের কারণে তামিম যখন ওয়ানডের নেক্সট ম্যাচেই ক্যাপটেন হিসাবে মাঠে নামবে এই ছেলেগুলো ওর জন্য জীবন বাজি রেখে খেলবে কারণ, কেউ করুক আর না করুক তামিম নিজেই এই ছেলেগুলোর হার্ডওয়ার্ককে প্রোপার জাস্টিফাই করেছে,’ যুক্ত করেন তিনি।

মাশরাফীর মতে, ‘আর তামিম স্টিল দ্য বেস্ট এন্ড উইল বি রিমেইন ইনশাল্লাহ। এই ফরম্যাটে জোর করে খেলে অবশ্যই টেস্ট, ওয়ানডের সেরা ব্যাটসম্যানকে আপসেট কেউ দেখতে চাইবে না। তামিমের এখনো অনেক ম্যাচ জেতানোর বাকি আছে। ইউ বিউটি খান, উইল বি মিস ইউ ইন ওয়ার্ল্ডকাপ। আজ বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে জিতেছে একরকম নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েই। এভাবে উড়াতে থাকো বন্ধুরা।’