বিসিএস পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি না দেয়ায় এসআই হাসানের আত্মহত্যা!

সংগ্রহীত

বিসিএস পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি না দেয়ায় এসআই হাসানের আত্মহত্যা!

ইচ্ছা ছিলো বিসিএস পরীক্ষা দেয়ার। কিন্তু সে ইচ্ছা পূরণ না হওয়ায় অভিমানে আত্মহত্যা করেন এসআই হাসান আলী। পাবনা জেলার আতাইকুলা থানায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন হাসান। থানার ওসি বিসিএস পরীক্ষার জন্য নিজ গুলিতে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে দাবি হাসানের পরিবারের।

গত রোববার (২১ মার্চ) থানা ভবনের ছাদে উঠে নিজের পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন এসআই হাসান আলী। সোমবার ভোরে তার মরদেহ যশোরের কেশবপুরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরাসহ এলাকাবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন। সোমবার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে হাসানের লাশ দাফন করা হয়।

পুলিশের দাবি হাসান আলী আত্মহত্যা করেছেন। তার বাবার দাবি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাকে ছাড়পত্র দেননি। এ কারণে তাকে লাশ হতে হলো। এজন্য থানার ওসিই দায়ী।

তিনি জানান, যদিও জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা হাসানের ছুটি মঞ্জুর করেছিলেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আতাইকুলা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসান বিসিএস পরীক্ষা দেবেন একথা তিনি জানেন না। ছুটি মঞ্জুর হলেও তিনি ছুটিতে যাননি।’

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল জব্বার অনেক কষ্টে ছেলে হাসানকে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্বদ্যিালয়ে পড়িয়েছেন। দুই বছর আগে হাসান এসআই পদে নিয়োগ পান। তার বাবা জব্বার এখনো ভ্যান চালান।

ছেলের লাশ দাফনের সময় বাবা ভ্যানচালক আব্দুর জব্বার বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ভ্যানে যাত্রীরা উঠার পর ভাড়া যা দেয় তাতেই সন্তষ্ট থাকি। কখনো কোন যাত্রীর সাথে মুখকালো হয়নি। সে ভাবেই আমার ছেলেকে বলে ছিলাম বাবা তুমি সৎ থেক। কখনও অসৎ ভাবে টাকা উপর্জন করো না। সৎ পথে থাকার কারণেই আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে। যারা সৎ থাকে তাদের পদে পদে অসুবিধার সম্মুখিন হতে হয়।’

মা আলেয়া বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘শনিবার রাত ১২ টায় মোবাইল ফোনে ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়। শুক্রবার খুলনায় তার বিসিএস পরীক্ষা ছিল। কিন্ত ছুটি না পাওয়ায় তার পরীক্ষা দেওয়া হলো না।’ এ সময় মা কাঁদতে কাঁদতে আরো বলেন ছেলে তাকে জানিয়েছে আতাইকুলা থানার ওসি স্যার অন্যদের ছুটি দিলেও তাকে (ছেলে) ছুটি দেননি।’

প্রতিবেশীরা জানান, জব্বারের টালির ছাউনি ও মাটির দেওয়ালের ঘর বলে দেয় হাসান অবৈধ টাকা নেননি। এখনো রিকশা ভ্যান চালাতে হয় তার বাবাকে।