ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব : ৭ মামলায় আসামি সাড়ে ৮ হাজার

সংগ্রহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব : ৭ মামলায় আসামি সাড়ে ৮ হাজার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত শুক্রবার থেকে রোববার (২৮ মার্চ) পর্যন্ত হেফাজতে ইসলাম ও মাদ্রাসাছাত্রদের চালানো ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে।  

শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত করা এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে মোট সাড়ে আট হাজার জনকে।

এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর থানায় পাঁচটি ও আশুগঞ্জ থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় সাড়ে আট হাজার আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দায়েরকৃত সাতটি মামলার মধ্যে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বাদী হয়ে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। (মামলা নম্বর-৪১ ও ৪২, তারিখ-২৭-০৩-২১ ইং)। মামলা দু’টিতে অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচ হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে।  

আনসার-ভিডিপির কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আনসারের সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন (মামলা নং-৪৫, তারিখ-২৮-০৩-২১ ইং)। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০০/৫০০ লোককে আসামি করা হয়েছে।  

ইউনির্ভাসিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলার ঘটনায় ইউনির্ভাসিটির রেজিস্ট্রার খন্দকার এহসান হাবিব বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-৪৪, তারিখ ২৮-০৩-২১ ইং)। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০/৩০০ লোককে আসামি করা হয়েছে।  

এ ছাড়া পৌর এলাকার পশ্চিম মেড্ডা পীরবাড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে হেফাজত কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের এসআই মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা করেছেন (মামলা নং-৪৩, ২৭-০৩-২১ইং)। এ মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০০০/১৫০০ লোককে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া আশুগঞ্জ টোলপ্লাজায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আশুগঞ্জ হাইয়ের সার্জেন্ট জহিরুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪০০/৫০০ লোকের বিরুদ্ধে একটি এবং আশুগঞ্জ টোলপ্লাজার দায়িত্বপ্রাপ্ত জয়নাল আবেদীন অজ্ঞাতনামা ৪০০/৫০০ লোকের বিরুদ্ধে অপর মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে ঘটনায় সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবং সোমবার বেলা ১১টার পর পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ এনডিসি পুড়িয়ে দেওয়া বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে বলা হয়েছে। এরপর সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।  

অপরদিকে, সকাল ১১টার দিকে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে বলেন, ঘটনাগুলো তদন্ত করতে অতিরিক্ত ডিআইজিকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত সদর থানায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। আরও মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আশুগঞ্জ থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ বলেন, হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে আশুগঞ্জ থানায় দু’টি মামলা করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ রইছ উদ্দিন জানান, তিনদিনের সংঘর্ষের ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষের সময় তিনিসহ পুলিশের ৮০ সদস্য আহত হন।