ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিল্মি কায়দায় তরুণী অপহরণকারী বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিল্মি কায়দায় তরুণী অপহরণকারী বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় আলোচিত ফিল্মি স্টাইলে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামী ও মূল পরিকল্পনাকারী জসীম উদ্দিনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সকালে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। জসিম উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদ উপজেলার মোন্দ গ্রামের ধন মিয়ার ছেলে।

আজ দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান এলিট ফোর্সটির মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‌্যাবের মুখপাত্র আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসিম উদ্দিন মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী বলে জানা গেছে। ভূক্তভোগী তরুণীর ভাষ্যমতে দীর্ঘদিন যাবৎ সে ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। স্কুলে যাওয়া ও প্রাইভেট পড়তে আসা-যাওয়ার সময় জসিম উদ্দিন প্রায়ই তরুণীকে উতক্ত করত বলে স্বীকার করে। কিন্তু তরুণী প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় জসিম উদ্দিন তরুণীকে অপহরণসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়।

 

এর আগে, গত ৯ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে ওই তরুণী স্কুল শেষে বাসায় যাওয়ার পথে জসিম উদ্দিন ও সহযোগী ইরফান এবং আশিকসহ ভুক্তভোগী তরুণীকে জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিকাল পর্যন্ত জোরপূর্বক আটকে রেখে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যার দিকে জসিম উদ্দিন তার এক নিকটাত্মীয়ের বাসায় ভুক্তভোগী তরুণীকে নিয়ে যায়। এরপর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যম ও এলাকায় জানাজানি হওয়ায় গ্রেফতারকৃত জসিম উদ্দিন রাত ৮টার দিকে তরুণীকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। জসিম উদ্দিন রাজধানীর বাড্ডায় তার এক নিকটাত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপন করে। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা জায় যে, গ্রেফতারকৃত জসিম উদ্দিন প্রাইভেটকারটি তার এক আত্মীয়ের নিকট হতে ভাড়ায় নেয়।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর মা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর থানায় জসিম উদ্দিনসহ ৫ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপরে র‌্যাব এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে ও জড়িতদের গ্রেফতারের ব্যপারে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।