ভোট ছাড়াই চেয়ারম্যান ৮১

ভোট ছাড়াই চেয়ারম্যান ৮১

দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে (ইউপি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষ, আজ বুধবার হবে প্রতীক বরাদ্দ। দ্বিতীয় ধাপের ৮৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি রয়েছে। এ ধাপে মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৩ হাজার ৯৬৩ জন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বেশির ভাগই বিদ্রোহী। এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন ৫৭২ জন।  নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন, এ নির্বাচনে মোট চূড়ান্ত প্রার্থী ৪৩ হাজার ৩৭১ জন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান ৩ হাজার ৯৬৩, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৯ হাজার ১৩২ এবং সাধারণ সদস্য প্রার্থী ৩০ হাজার ২৭৬ জন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে এ নির্বাচনে ৩৬০ জন জনপ্রতিনিধি বিনা প্রতিদ্বন্দি¦তায় নির্বাচিত হয়েছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৮১ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭৬ এবং সাধারণ সদস্য পদে ২০৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দি¦তায় নির্বাচিত হয়েছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ই চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী ছিল ৩১ জন। প্রত্যাহারের পরে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১ জনে। এর আগে প্রথম ধাপে ৬৯ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য ৬৩ এবং সংরক্ষিত ৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রতীকে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র হিসেবে দলের সমর্থকরা অংশ নিচ্ছেন। তবে দলীয় কোন্দলের কারণে একই ইউপিতে বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী প্রার্থী হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকার ঘোষণাও দিয়েছেন এসব প্রার্থী। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূলের সবচেয়ে বড় নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় ধাপে নিবন্ধিত ৩৯ রাজনৈতিক দলের মধ্যে অংশ নিচ্ছে মাত্র ১৭টি। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টিসহ পাঁচ দলের প্রার্থীই বেশি। এ ছাড়া নামে মাত্র নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১২টি দল।

দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৬ ইউপির বাছাই শেষে তিন পদে মোট  বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৪৩ হাজার ৭৬৭ জন ছিল। এরমধ্যে আপিল শেষে এ নির্বাচনে মোট চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৩৭১ জনে। আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে আজ চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। এ সময় একক প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা।

 

তথ্যানুযায়ী, নাটোর সদরের সাতটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ১৯ জন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া এই উপজেলার একটি ইউপিতে বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছে। বড়াইগ্রামের পাঁচ ইউপিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ১৪ জন।  এরমধ্যে নয়জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার চার ইউনিয়নে ১৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে ১১ জন নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী। গাংনী উপজেলার পাঁচটি ইউপিতে কেউ মনোনয়নপত্র প্রতাহার করেননি। পাঁচ ইউপিতে একজন বিএনপির সমর্থক প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া ১৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী। সিরাজগঞ্জ সদরের আটটি ইউনিয়ন এবং রায়গঞ্জ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১১ নভেম্বর। গতকাল সদরের তিনটি এবং রায়গঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বাদে অন্যরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ছয়জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরের চারটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে ১২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। কমলনগরের চরলরেন্স ইউপিতে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। এ ছাড়া চরলরেন্স ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।