মঙ্গলগ্রহের লাল রঙের রহস্য

সংগ্রহীত

মঙ্গলগ্রহের লাল রঙের রহস্য

মহাশূন্য থেকে আমরা যখন পৃথিবীর দিকে তাকাই তখন আমরা বেশ কিছু রঙ দেখতে পাই। তবে এর মধ্যে নীল রঙের আধিক্যই সবচেয়ে বেশি।

পৃথিবীর আকাশ নীল, সমুদ্রের পানি নীল, মহাদেশগুলো বাদামী-সবুজ। আবার, উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বরফ সাদা। যার মূল কারণ স্বল্পদৈর্ঘ্যের আলোকতরঙ্গ।

কিন্তু পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী মঙ্গল গ্রহে এতো রঙের আধিক্য নেই। সেখানে পুরো গ্রহজুড়ে একটি রঙই আধিপত্য বিস্তার করে- লাল। মঙ্গলের ভূপৃষ্ঠ থেকে শুরু করে শুকিয়ে যাওয়া নদী, পর্বত সবই লাল।

মহাশূন্য থেকে এই গ্রহটিকে সবসময় লাল রঙেরই দেখায়। বাংলা ভাষায় মঙ্গল শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে, সংস্কৃত ভাষায় যার অর্থ ‘লাল’। প্রাচীন মিশরীয় ভাষায় মঙ্গলগ্রহকে বলা হয় ‘হার ডেচার’, আক্ষরিকভাবেই যার অর্থ লাল! এমনকি বর্তমান যুগে যখন সরাসরি মহাশূন্য থেকে আমরা মঙ্গলের ছবি দেখি সেটার রঙও সেই লাল। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলেও সবসময় একটি লাল আভা দেখা যায়। তবে বিস্ময়কর হলেও মঙ্গলের এই লাল রঙের পুরুত্ব খুবই কম। এটা মাত্র কয়েক মিলিমিটার পুরু।

কিন্তু মঙ্গলের রঙ এতো লাল হওয়ার মূল কারণ কী?

মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব পৃথিবীর তুলনায় মাত্র ০.৭% পুরু। আর মঙ্গলের এই লাল হওয়ার পিছনের মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এরই মধ্যে।

এর মূল কারণ রায়লে স্ক্যাটারিং। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বায়ু অণু এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র কণা থাকে যখন সূর্য থেকে আলো বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যায় তখন বায়ুমণ্ডলে প্রচুর সংখ্যক কণা দ্বারা এটি ছড়িয়ে যায়।

রায়লে স্ক্যাটারিং আইন (আরএসএল) অনুসারে, বিক্ষিপ্ত আলোর তীব্রতা উচ্চতার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চতুর্থ অংশ (1 / ঘন্টা) হিসাবে বিপরীতভাবে পরিবর্তিত হয়)। দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় সংক্ষিপ্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যগুলি আরও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে।

আরএসএল অনুসারে, নীল রঙের আলো লাল আলোর চেয়ে বেশি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কারণ, এই কারণে আকাশটি নীল রঙে প্রদর্শিত হয়। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় সূর্য থেকে রশ্মি বায়ুমণ্ডলের একটি বড় অংশ ভ্রমণ করে। অতএব, বেশিরভাগ নীল আলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে এবং কেবলমাত্র লাল আলো পর্যবেক্ষকের কাছে পৌঁছায়। সুতরাং সূর্যালোক এবং সূর্যাস্তে সূর্য লাল প্রদর্শিত হয়।