মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধে দেশের সব বন্দরে সতর্কতা জারি

মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধে দেশের সব বন্দরে সতর্কতা জারি

বিশ্বের অন্তত ১১টি দেশে মাঙ্কিপক্স নামের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন পুরো বিশ্ব। দেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধে সব বন্দরে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ রাতে বিষয়টি জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম।

ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বিমানবন্দর, স্থলবন্দরসহ সমস্ত বন্দরগুলোকে আমরা সতর্ক থাকতে বলেছি। সন্দেহভাজন কেউ এলে যেন তাকে চিহ্নিত করা যায় এবং অতিদ্রুত যেন তাকে সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘মাঙ্কিপক্স নিয়ে আমাদের এতো আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা ভাইরাসটির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা সারাবিশ্ব থেকেই তথ্য-উপাত্ত নেব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার সেটি আমরা নেব।

মাঙ্কিপক্সের বিষয়ে সব জেলার সিভিল সার্জনদের সতর্ক করা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে ডা. নাজমুল বলেন, ‘আমরা যখন কোনো নির্দেশনা দিই, তখন সেটি জেলা সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগের সব পর্যায়েই চলে যায়। সব জেলায় তো স্থলবন্দর নেই। যেসব জেলায় আছে সেগুলোতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’

এদিকে, গতকাল শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচ) জানিয়েছে, এরই মধ্যে ইউরোপের ১১টি দেশে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যাও ছাড়িয়েছে ১০০।

অবশ্য, বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাস মহামারির মতো সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন না। সার্স-কভ-২ ভাইরাসের মতো সহজে মাঙ্কিপক্স ছড়ায় না বলে তারা মনে করছেন। মাঙ্কিপক্স সাধারণ একটি ভাইরাসজনিত মৃদু রোগ। এটি প্রাণীবাহিত। এর উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর ও ফুসকুড়ি।

বানরে শনাক্ত হওয়া রোগটি ঘনিষ্ঠ স্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে আফ্রিকার বাইরে রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এতদিন পর্যন্ত বিরল ছিল। ফলে ইউরোপসহ যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।