মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পকেটে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন বলিউডে কাজের আশায় নোরা

সংগ্রহীত

মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পকেটে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন বলিউডে কাজের আশায় নোরা

ছোট থেকেই নাচের প্রতি আলাদা ভালোলাগা কাজ করতো নোরা ফাতেহি। কিন্তু স্কুল জীবনে তার নাচ দেখে হেসেছিলো তারই সহপাঠীরা।  তারপর জেদ করে পরের দিন নাচ শেখার অনুমতি চান মায়ের কাছে।

কিন্তু মরক্কোর রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান নোরার নাচ শেখার অনুমতি মেলেনা। তাই নাচ শেখার অনুমতি না মেলায় ঘরের দরজা বন্ধ করে ইউটিউব দেখে নাচ শিখতে শুরু করেন নোরা। সেই থেকে নাচের দুনিয়াই নোরার যাত্রা শুরু। 
 
কলেজ জীবন শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত নাচের স্কুল থেকে ডাক পেলেন। কিন্তু এখানেও পরিবারের অনুমতি পেলেন না। আর এমন সময় মারা গেলেন নোরার বাবা। বাবার মৃত্যুর পর ১৮ বছরের নোরা নিজের কাঁধে তুলে নিলেন পরিবারের দায়িত্ব। কাজ শুরু করলেন। সকাল থেকে বেলা একটা পর্যন্ত রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন করতেন। সন্ধ্যায় কাজ করতেন কল সেন্টারে।

কল সেন্টারে কাজ করার ফাঁকে ভারতের বিভিন্ন মডেলিং এজেন্সিতে নাচের ভিডিও পাঠিয়ে লিখতেন কাজের ইচ্ছার কথা। কিন্তু তাও মলিতো না সাড়া। অবশেষে একদিন একটা মেইলের জবাব আসে। ২০১২ সালে লাগেজ গুছিয়ে গুটিয়ে কানাডা থেকে ভারতের মুম্বাইয়ে চলে আসেন নোরা।

মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পকেটে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন বলিউডে কাজের আশায় নোরা। ভারতে নেমেই দিয়েছেন একের পর এক অডিশন,  অংশ নিয়েছেন রিয়েলিটি শোয়েও।  অনেক কষ্টের বিনিময়ে অবশেষে মিউজিক ভিডিওতে সুযোগ পান নোরা যা নিজেই বলেছিলেন ভারতীয় এক সাংবাদ মাধ্যমকে।

ভারতে এসে প্রথম দুই বছর নোরা কেবল বিজ্ঞাপন করেছেন, কিন্তু কোনো টাকা পাননি। সিনেমায় একটা চরিত্র পেতে সময় লেগে গেছে দুই বছর। সেই নোরার ঝুলতে আছে বর্তমানে ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’, ‘কিক টু’, ‘শের’, ‘লোফার’, ‘সত্যমেভ জয়তে’, ‘স্ত্রী’, ‘ভারত’, ‘বাটলা হাউস’ ইত্যাদির মত উল্লেখযোগ্য ছবি।

বলা হয় নোরা ফাতেহিই বলিউডের নাম্বার ওয়ান আইটেম গার্ল। হিন্দির পাশাপাশি দক্ষিণী ছবিতেও নোরা সমান দক্ষ তেলুগু, মালয়ালম এবং তামিল ছবিতেও তার সরব উপস্থিতি নজর কাড়ে।