মালদ্বীপ সফরে প্রধানমন্ত্রী: যেসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে

মালদ্বীপ সফরে প্রধানমন্ত্রী: যেসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইবরাহিম মোহাম্মদ সলিহ’র আমন্ত্রণে আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে দুই দিনব্যাপী মালদ্বীপ সফর করবেন। এসময় ঢাকা ও মালের মধ্যে বৈদেশিক কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দ্বৈত কর, বন্দি স্থানান্তর, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।’

চারটি প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক হলো- আয় কর সংশ্লিষ্ট দ্বৈত কর পরিহার এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ চুক্তি; বন্দীদের স্থানান্তর চুক্তি; বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক (নবায়ন); যুব ও ক্রীড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সমঝোতা স্মারক।

ড. মোমেন বলেন, এছাড়া বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধে যোগ্য স্বাস্থ্য পেশাজীবী নিয়োগ বিষয়ক সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দিনের এ সরকারি সফরকালে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে মালদ্বীপকে ১৩টি সামরিক যান উপহার প্রদান করবেন।

ড. মোমেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মালদ্বীপে সর্বাধিক সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী রয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশি দক্ষ ও অদক্ষ উভয় জনশক্তির জন্য আরও কাজের সুযোগ তৈরি করবে।
মোমেন বলেন, ২২ ডিসেম্বর বিকেলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি ভিভিআইপি বিশেষ ফ্লাইটে মালে পৌঁছবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে মালদ্বীপের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন।

২৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহাম্মদ সলিহ আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন এবং এদিন বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।

একই দিন প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সে দেশের প্রেসিডেন্ট ভবনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

মোমেন বলেন, দুই দেশের মধ্যে যৌথ বিবৃতি ইস্যু করা হবে এবং দুই নেতা যৌথভাবে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হবেন।
মোমেন আরও বলেন, এ সফরকালে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা মালদ্বীপের জাতীয় সংসদেও ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা তার সম্মানে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে যোগ দিবেন।

মোমেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও ভার্চুয়ালি শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালদ্বীপ সরকার সেখানে অবস্থানরত সব অনিবন্ধিত বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের নিবন্ধন করার উদ্যোগ নিয়েছে যাতে তাদের অবস্থান বৈধ করা যায়।

মোমেন বলেন, মালদ্বীপ সরকার জানিয়েছে যে, পর্যটনের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল দ্বীপ দেশটি তাদের আরও ৬০টি দ্বীপে রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা করছে যা বাংলাদেশি কর্মশক্তির জন্য বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

যোগাযোগের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা মালদ্বীপের সাথে সরাসরি বিমান যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স শিগগিরই ঢাকা থেকে মালে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে।

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে শিপিং লাইন স্থাপনের প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে চায় এবং ঢাকা সবসময় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়।