মিজোরামে নতুন ইমিগ্রেশন চালু করতে চায় বাংলাদেশ

সংগ্রহীত

মিজোরামে নতুন ইমিগ্রেশন চালু করতে চায় বাংলাদেশ

এবার প্রায় অচেনা গন্তব্য, মিজোরামে নতুন ইমিগ্রেশন চালু করতে চায় বাংলাদেশ। এ জন্য বেছে নেয়া হয়েছে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক উপত্যকা। এতে কমবে দূরত্ব, বাড়বে পণ্যের আদান প্রদান, বিপুলসংখ্যক ভারতীয় পর্যটকও ভ্রমণ করবেন বাংলাদেশ। তাই শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্কই উঠবে নতুন উচ্চতায়, ধারণা বাণিজ্যমন্ত্রীর।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইউরোপের আদলে অভিন্ন সীমানা সম্পর্ক স্থাপনে এখনই নজর দেয়া উচিত দক্ষিণ এশিয়ার।

একটি নদী, এপারে যার নাম কর্ণফুলী আর ওপারে খাউতলাং তুইপুই। মাত্র ২০০ মিটার চওড়া এই নদীই ভাগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ আর ভারতকে। এখানেই একটি সেতু আর নতুন ইমিগ্রেশন চালু করে মেঘ পাহাড়ের সাজেক আর মিজোরামের জোড়া লাগাতে চায় বাংলাদেশ।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আমাদের যাওয়া-আসার রাস্তাটা খুলে দিতে হবে। বর্ডার ইমিগ্রেশন পয়েন্টগুলো খুলে দিতে হবে। যাতে আমাদের লোকজন ওদের ওখানে যেতে পারে এবং ওদের লোকজন যেন আমাদের এখানে আসতে পারে। 

মানচিত্রের রেখা বলছে, এখন যদি কেউ সাজেক থেকে মিজোরাম যেতে চান, কিংবা সেখান থেকে আসতে চান, তাহলে ডাউকি সীমান্ত হয়ে আসতে যেতে সময় লাগবে ২২ ঘণ্টার বেশি। অথচ একটা সেতু আর ইমিগ্রেশন এই দূরত্ব নামাতে পারে মাত্র ১ ঘণ্টায়। তাই বহুদিন ধরেই বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরও ব্যবহার করতে চায় মিজোরাম। আগ্রহী বাংলাদেশও।

প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, মিজোরামের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে তারা পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যাবে সাজেক পর্যটন নগরীর কথা চিন্তা করে। আমাদের বাঙালি পর্যটকরা কিন্তু মিজোরামে পৌঁছে যাবে এবং আমরাও কিন্তু মিজোরামের অর্থসামাজিক অবস্থার ওপরে একটা প্রভাব ফেলতে সক্ষম হব। 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সম্ভাব্য সব সুযোগ কাজে লাগানোর জন্যই শুধু বাংলাদেশ নয়, আগ্রহী হতে হবে এ অঞ্চলের সবাইকেই।

উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. আবু ইউসুফ বলেন, পুরো ইউরোপকে একটি দেশ মনে হয়। আমাদের এই অঞ্চলেও বিশ্বাসের জায়গাটার যে ঘাটতি আছে সে বিশ্বাসের জায়গাটা উন্নতি করতে হবে।

৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটারের বিশাল সীমানা ভাগাভাগি করেছে বাংলাদেশ ভারত। যার মধ্যে মিজোরামের সঙ্গে ১৮০ কিলোমিটার। দু’দেশের মধ্যে চালু স্থলবন্দর ১২টি, যার ১টিতে শুধুই পণ্য পারাপার হয়।