মিথ্যাচার না করে করোনার দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় নজর দিন

মিথ্যাচার না করে করোনার দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় নজর দিন

মিথ্যাচার না করে করোনার দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় নজর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতরের চলতি দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

তিনি বলেছেন, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ দেশের জনপদে এসে ধাক্কা খাচ্ছে, অথচ সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই।  প্রথম ধাপের মতো একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসকদের মতামত আমলে নিয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণকে রক্ষায় তাদের পাশে দাঁড়ান।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।  এ সময় ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

প্রিন্স বলেন, সম্প্রতি সরকারি একটি সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনেই দেখা গেছে- শুধুমাত্র ঢাকা মহানগরীর প্রায় ৫০ ভাগ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।  গত ১ মাসে ঢাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ ভাগ বেড়েছে।  এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ।  সারা দেশে করোনা টেস্ট হচ্ছে না বললেই চলে।

মানুষের মৌলিক অধিকারের পথ সংকুচিত করে দেশে স্বাধীনতা পরবর্তীকালের মতো ‘ভয়াবহ দুঃশাসন’ চলছে বলে মন্তব্য করেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।  তিনি বলেন, আজ দেশবাসী চরম এক দুঃসময়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি  দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে।  গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক, ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ সব মৌলিক অধিকারের পথ সংকুচিত করে চলছে স্বাধীনতা পরবর্তীকালের মতো ভয়াবহ দুঃশাসন।  জনগণের কাছ থেকে দেশের মালিকানা কেড়ে নিয়ে নির্বাচন ও গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে মাস্তানতন্ত্র কায়ের করা হয়েছে।

সদ্য উদ্ধার হওয়া চট্টগ্রামের সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারের ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার বিষয় তুলে ধরে প্রিন্স বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন এবং স্বাধীন ও সাহসী সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধে ভয়াবহ মধ্যযুগীয় বর্বরতার বাস্তব প্রমাণ এ ঘটনা।  গণমাধ্যমে সার্বিক বর্তমান ভয়াবহ অবস্থার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারের আর্তনাদে। গোলাম সারোয়ারকে অপহরণ করা হয়েছিল ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীদের জমি দখল, অনিয়ম, দুর্নীতি, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সত্য সংবাদ প্রকাশের জন্য। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

তিনি বলেন, এটি স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর ক্ষমতাসীনদের দমন-পীড়নেরই ধারাবাহিকতা। সম্প্রতি পটুয়াখালীর বাউফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা তার পছন্দমতো কাজ না করায় উপজেলা কৃষি অধিদফতরের একজন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করে। প্রতিনিয়ত এই ধরনের ন্যক্কারজনক ও পেশীশক্তির ঘটনা ঘটছে। বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এহেন ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি এবং সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারকে অপহরণ ও নির্যাতনকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

স্বাধীন সাংবাদিকতা সরকার ও ক্ষমতাসীনদের ‘প্রচ্ছন্ন হুমকি’র মধ্যে রয়েছে উল্লে­খ করে প্রিন্স বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে বিভ্রান্তিকর কথা বলে একদিকে যেমন স্বাধীন সাংবাদিকতার পেশাকে প্রচ্ছন্ন হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হচ্ছে, পাশাপাশি মাস্তানতন্ত্রের স্টেক হোল্ডারদেরকে সত্য প্রকাশে বাধাসহ দমন-পীড়নে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সাংবাদিক নির্যাতন অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

তিনি বলেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে এ বছরের প্রথম নয় মাসে রাষ্ট্রীয় ও ক্ষমতাসীন দলীয় বাহিনী দ্বারা ২০৯ জন সাংবাদিককে হুমকি, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।  ৮১ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা আইনে মামলা হয়েছে। হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে ২৩ জন সাংবাদিককে, নিহত হয়েছেন একজন সাংবাদিক।  এসবের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি জানা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।