মিশা সওদাগর জায়েদের বিষয়ে যা বললেন

জায়েদের বিষয়ে যা বললেন মিশা সওদাগর

মিশা সওদাগর জায়েদের বিষয়ে যা বললেন

দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর বর্তমান সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বিভিন্ন পদে নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে সমিতির কার্যালয়ে কাঞ্চন-নিপুণকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন মিশা সওদাগর।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেলেও চেয়ারে বসতে পারেননি চিত্রনায়ক জায়েদ খান। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় আপিল বোর্ডের কাছে নিপুণের করা অভিযোগে প্রার্থিতা হারান জায়েদ। পরবর্তীতে নিপুণকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান।

জায়েদের বিষয়ে মিশা সওদাগর বলেন, ‘জায়েদ কী করবে এটা তিনিই বলতে পারবেন। তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।’

প্রতিবার নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ালেও এবার ইলিয়াস কাঞ্চনকে শপথ পড়ান বিদায়ী সভাপতি মিশা সওদাগর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রধান পীরজাদা শহীদুল হারুনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় আলমগীর ভাইসহ অনেকেই আমাকে শপথ পড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছে। এটা আমি করতেও পারি। কারণ, বিদায়ী সভাপতি দায়িত্ব তুলে দেবেন নতুন সভাপতির কাছে। শপথ পড়ানোর মাধ্যমে সে কাজটি আমি করলাম।’

ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায়ী সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, ‘আপনাদের সবার প্রতি আমার সালাম, দোয়া ও ভালোবাসা। বিশেষ করে অভিনন্দন জানাই, যারা আজকে জয়ী হয়েছেন। আমি বরাবরই বলেছি, শিল্পী সমিতির নির্বাচন হচ্ছে মালা বদলের পালা। আজকে একটা মালা বদল অনুষ্ঠান হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের সবার কাছে আমি শুধু একটি অনুরোধ করব, পেছনের দিকে যা ঘটেছে সেদিকে আমরা না তাকাই। আগামী দিনে কীভাবে সমৃদ্ধশালী শিল্পী সমিতি গড়ে তুলব, সেই ব্যবস্থা আমরা করি।’

ইলিয়াস কাঞ্চনের উদ্দেশে মিশা সওদাগর বলেন, ‘আজকে থেকে সভাপতি হচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। আমি তাকে অনুরোধ করব, আমি সবাইকে নিয়েই কাজ করবেন এবং এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন যেটা পূর্বে হয়নি। আমি বিশ্বাস করি, আপনি আলোকিত মানুষ, আপনার আলোয় আলোকিত হবে পুরো চলচ্চিত্র পরিবার। আজকে সবাই থাকলে আমি খুশি হতাম। সবাই যাতে থাকে আপনি সেই কার্যকরী পদক্ষেপ নিবেন আশা করি। আমি বিশ্বাস করি ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

এদিকে নতুন কমিটি শপথ নেওয়ার আগেই ইলিয়াস কাঞ্চন জানিয়েছিলেন, তিনি মিশা সওদাগরকে উপদেষ্টা পরিষদের একজন হিসেবে প্রত্যাশা করেন। কারণ, মিশার অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে তারা উপকৃত হবেন। এ বিষয়ে মিশা বলেন, ‘প্রস্তাব পেলে অবশ্যই ভেবে দেখব। এ কমিটির যেকোনো সাহায্য লাগলে আমি পাশে আছি।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। সেখানে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেন জায়েদ খান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নায়িকা নিপুণ অভিযোগ তোলেন, নির্বাচনে দুর্নীতি করেছেন জায়েদ। টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন তিনি। এসব অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করেছিলেন নিপুণ। লিখিত অভিযোগ জানান নির্বাচনের আপিল বোর্ডের কাছেও। এরপরই বোর্ডকে বিষয়টির সুরাহা করার দায়িত্ব দেয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ জন্য শনিবার বিকেলে বৈঠক ডাকে আপিল বোর্ড। এতে নিপুণ অংশ নিলেও জায়েদ ছিলেন অনুপস্থিত। তার অনুপস্থিতিতেই সোহানুর রহমান সোহান ঘোষণা করেন, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জায়েদ খান থাকছেন না। নির্বাচনে অনিয়ম করার অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তার পরিবর্তে অপর প্রার্থী নিপুণ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।