মৌসুমের প্রথম ভারী বর্ষণেই নাজেহাল রাজধানীবাসী

সংগ্রহীত

মৌসুমের প্রথম ভারী বর্ষণেই নাজেহাল রাজধানীবাসী

মৌসুমের প্রথম ভারী বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি দ্রুত নেমে না যাওয়ায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীর মানুষ।ভোর থেকে ভারী বর্ষণের কারণে এই জলাবদ্ধতা থেকে তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।

মঙ্গলবার (১ জুন) সকালে রাজধানীবাসীর ঘুম ভাঙে বৃষ্টির শব্দে। আলো ছড়াতেই রাস্তায় ভিড় জমান কর্মজীবীরা। শুরু হয় দুর্ভোগ। অলিগলির হাঁটু কিংবা কোমরপানিতে ছিল না রিকশা। গাড়িও বের হতে পারেনি অধিকাংশ রাস্তায়। অনেক জায়গায় অধিক পানিতে যানবাহন বিকল হতে দেখা গেছে। এতে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট।

মতিঝিল, বংশাল, পল্টন, রাজারবাগ, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, মিরপুর, এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ দেখা যায়।

ঢাকার ড্রেনেজ সিস্টেম কোনোকালেই খুব ভালো ছিল না। জলাবদ্ধতা তাই নতুন কিছু নয়। তবে মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতে সড়কে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনায় পানি সরার লাইনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেখা দেয় বেশি দুর্ভোগ।

বৃষ্টির কারণে সূত্রাপুর থানার আশপাশে সকাল থেকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে লোকজন বাসা থেকে বের হতে পারছিলেন না। অনেকেই রাস্তা পার হওয়ার জন্য বাসার গেটের সামনে রিকশার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। একটি রিকশা এলেই হাঁকডাক শুরু হয়। কে কার আগে যাবে তার প্রতিযোগিতা। আর এ সুযোগে রিকশাওয়ালারাও বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। আবার ৩০ টাকার রিকশা ভাড়ার দূরত্বে সিএনজি অটোরিকশাকে দেড়শ টাকা দাবি করতেও দেখা যায়।

জলাবদ্ধতা সৃষ্টির হওয়ার কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে পরিচ্ছন্নকর্মীদের ড্রেনগুলো পরিষ্কার করতে দেখা গেছে।

বৃষ্টির কারণে সকাল থেকে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশন গোলচত্বর, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার প্রধান সড়ক পানিতে ডুবে যায়। পানি জমার কারণে সাইলেন্সার পাইপে পানি ঢুকে অনেক যানবাহন সড়কেই অচল হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, এসব এলাকার অলিগলি ভিতরেও পানি জমে থাকতে দেখা যায়। সকাল থেকেই এসব এলাকার কর্মজীবী মানুষজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

ডেমরা থানার আদর্শবাদ কোনাপাড়া এলাকায় সকালের বৃষ্টিতে সমস্ত রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। ওই এলাকার বাসিন্দা মো. ফেরদৌস নেছার বাংলানিউজকে জানান, একদিনের বৃষ্টিতে এই এলাকার যদি এই অবস্থা হয়, তবে টানা ২-৩ দিন বৃষ্টি লেগে থাকে তাহলে আমাদের আর ঘর থেকে বের হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা জানান, রাজধানীতে সকাল ৬টা পর্যন্ত ২১ মিলিমিটার বৃষ্টি এবং ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিকেলে কিছুটা কমে আসবে। কাল আবার আসবে। চট্টগ্রামে ১০৩ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।