যৌতুকের জন্য ঢাবির প্রাক্তন ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

ফাতেমা আরও বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টার পর নির্যাতন কিছুটা কমে। পরে ২০২১ সালের আগস্টে বিচারকদের জন্য একটি আবাসন প্রকল্পে জমি কেনার জন্য তাঁর স্বামী ১০ লাখ টাকা চান। টাকা দিতে না পারায় আবারও শুরু হয় নির্যাতন।

ফাতেমার অভিযোগ, তাঁর বাবা-মায়ের সামনেই স্বামী তাঁর গলা চেপে ধরেন। বাবা-মায়ের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন। এর আগেও তিনি ফাতেমার পরিবারের কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়েছেন। নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় পরে আর টাকা দেননি তাঁর বাবা-মা।

মেয়ের ওপর স্বামীর নির্যাতন চলতে থাকলে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ফাতেমার বাবা। পরে একখণ্ড জমি মেয়ের নামে লিখে দেন। ফাতেমার ভাষ্য, গত ২৯ আগস্ট তাঁর স্বামী ওই জমির দলিল চান। পরদিন সকালে ওই দিনের মধ্যে ১০ লাখ টাকা জোগাড় করে দিতে চাপ দেন। দাবি অনুযায়ী কাজ না হলে তালাক এবং হত্যা করার হুমকিও দেন তাঁর স্বামী।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ময়না তালুকদার অভিযোগকারী ফাতেমার স্বামীকে সহকারী জজের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘যে বিচারক নিজের ঘরের নারীদের সম্মান করতে পারেন না, তিনি কীভাবে সমাজের অপরাধীদের বিচার করবেন? এমন বিচারক আমাদের সমাজে দরকার নেই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা ও সহযোগী অধ্যাপক চন্দনা রানী বিশ্বাস বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীতে এসেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্রী যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হবেন, এটি আমরা কল্পনাও করতে পারি না। কানিজ ফাতেমার গলায় এখনো নির্যাতনে সৃষ্ট ক্ষত রয়েছে। তাঁকে মধ্যযুগীয় কায়দায় যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তাতে সে মরেও যেতে পারত।’

নির্যাতনের ঘটনায় কানিজ ফাতেমা পুলিশের সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন চন্দনা রানী বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনার দুই দিন পর ফাতেমা আমাদের কাছে এলে আমরা তাঁর শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পাই। এরপর নির্যাতনকারী স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

এই মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কালীদাস ভক্ত ও প্রমথ মিস্ত্রী, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি এবং বন্ধুসভার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যরাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।