রংপুরের ঘটনায় গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ, যা বলছে পুলিশ

রংপুরের ঘটনায় গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ, যা বলছে পুলিশ
রংপুরের পীরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত দায়ের হয়েছে ৪টি মামলা। গ্রেপ্তার ৭৪ জন। পুলিশ নিরীহ কাউকে হয়রানি না করার দাবি করলেও উঠেছে গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ। অন্যদিকে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলাগুলো বিচারের দাবি আইজীবীর।

গত ১৭ অক্টোবর রাতে মাঝিপল্লীতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেই হয়েছে ৩টি। হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে হয়েছে অপর মামলাটি।

এর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটিতে বাদী র‍্যাব, বাকিগুলোতে পুলিশ। ৪টি মামলায় মোট ৬৪ জনকে পুলিশ আর র‍্যাব ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্তরা সন্তুষ্ট হলেও তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অন্যরকম শঙ্কা। তারা বলছেন, প্রশাসন হয়তো কয়েক দিন থাকবে। পরে আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে?

সাবধানতার সঙ্গে এগোনো সত্ত্বেও পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো কোনো মহল থেকে চলা গণগ্রেপ্তারের প্রচারণাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছে পুলিশ।

রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, সবার প্রচেষ্টায় ভয়ের পরিবেশটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তরা এখন অনেকটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাচ্ছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে পুলিশ।

তিনি আরও বলেন, নেতিবাচক প্রচারণা চলছে যে গণগ্রেপ্তার চলছে। কিন্তু আমরা কোনো ধরনের গণগ্রেপ্তার করছি না। গণগ্রেপ্তারের কোনো পরিকল্পনাও আমাদের নেই। এটা সে রকম কোনো বিষয়ই না। আমরা প্রথম থেকেই বলছি, যারা এ ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত, তাদের সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে মামলাগুলো বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পরিচালনার পরামর্শ আইনজীবীদের।

বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম তুহিন বলেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করে আসামিদের শাস্তির আওতায় নিয়ে এলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার আশঙ্কা বন্ধ হয়ে যাবে।

পুলিশের দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রথম মামলাটির একমাত্র আসামি পরিতোষ সরকার ও দ্বিতীয় মামলায় পরিতোষের বন্ধু উজ্জল ও আলআমিন। দুজনই গ্রেপ্তার হয়েছেন। অন্যদিকে, র‍্যাবের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কারমাইকেল কলেজের ছাত্র সৈকত মণ্ডলকে।