রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি। এরইমধ্যে রেকর্ড ছুয়েছে তেলের দাম। সরবরাহ সংকটের আশংকায় বাড়তে শুরু করেছে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাশিয়ার ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়তে পারে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানী তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে দেশটি থেকে তেল আমদানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। অন্য কোন দেশ এমন ঘোষণা না দিলেও রাশিয়া ছেড়ে যাচ্ছে অনেক বড় তেল কোম্পানি। এর প্রভাবে তেলের দাম বাড়ছে লাফিয়ে। হিসেব বলছে, এক মাসের ব্যবধানে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধীত জ্বালানী তেলের দাম বেড়ে দাড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলারে। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যান বলছে, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে তেলের দর দেড়শ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

হিসেব বলছে, ইউরোপের মোট গ্যাসের চাহিদার ৪০ ভাগের যোগান আসে রাশিয়া থেকে। দেশটির সাথে ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রভাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।

অসম এই যুদ্ধের ফলে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রাশিয়া। যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকা রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৬৩০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানাডা। আন্তর্জাতিক লেনদেন মাধ্যম সুইফট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি ব্যাংককে। এরইমধ্যে দরপতনে রেকর্ড করেছে রুশ মূদ্রা রুবল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ত্রিশ শতাংশ দর হারিয়েছে মূদ্রাটি। এবছর দেশটির ডিজিপি ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস বিশ্লেষকদের।

যুদ্ধের প্রভাবে অস্থিরতা চলছে পুজিবাজারেও। ১৬ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের পুজিবাজারে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান পুজিবাজার ওয়ার্ল্ড স্ট্রিটের প্রধান সূচক এসএন্ডপি ফাইভ হান্ড্রেড ৩৪ পয়েন্ট কমে দাড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৪২ পয়েন্টে।

বিশ্লেষকরা বলছেন,  রাশিয়ার ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়তে পারে। এতে চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা সংস্থা। বিপরীতে মূল্যস্ফিতি বাড়বে তিন ভাগের মতো।