রায়হান হত্যা: বরখাস্ত এসআই আকবরসহ ৬ জনের নামে চার্জশিট

সংগ্রহীত

রায়হান হত্যা: বরখাস্ত এসআই আকবরসহ ৬ জনের নামে চার্জশিট

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার সাত মাসের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। এতে বরখাস্ত ওই ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁঞাসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

পিবিআই পরিদর্শক আওলাদ হোসেন আজ সকাল ১১টার দিকে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

গত বছরের ১১ অক্টোবর রাতে নগরীর কাষ্টগড় এলাকা থেকে তুলে নিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে হত্যা করা হয় রায়হানকে। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনিতে রায়হান মারা গেছেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

পরে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগে ১২ অক্টোবর রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করেন। এরপর ১২ অক্টোবর এসআই আকবর হোসেনসহ চারজনকে বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে আকবরকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘটনার ২৮ দিন পর গত বছরের ৯ নভেম্বর কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত থেকে বরখাস্তকৃত তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ দিন সন্ধ্যায় তদন্ত সংস্থা পিবিআিইর কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার প্রধান অভিযুক্ত বন্দরবাজার ফাঁড়ির এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবকারী কথিত সাংবাদিক আব্দুল্লাহআল নোমান এখনও পলাতক রয়েছে।