লকডাউনের মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চট্রলা মেয়রের ভ্রমণ

সংগ্রহীত

লকডাউনের মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চট্রলা মেয়রের ভ্রমণ

করোনা সংক্রণ রোখে সারাদেশ সরকার এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করে। একই সাথে অপ্রয়োজেন মানুষকে ঘরের বাইরে না যেতে নির্দেশনা ও দেয়া হয় সরকারের তরফ থেকে। গত ৩১ মার্চ সেই নির্দেশনা মেনে বান্দরবান জেলার পর্যটন স্পটগুলো দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) বান্দরবান জেলা প্রশাসনের এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সেখানকার ‘ভেনাস রিসোর্টে’ ভ্রমণে গেলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

যেখানে করোনা সংক্রণ রোধে সরকার সব বন্ধ করে মানুষকে ঘরে ফেরাতে বাধ্য করছে। সেখানে চট্রগ্রামের নগর পিতার এই ভ্রমণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।  অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন সবার জন্য যদি বান্দরবানের পর্যটন স্পট বন্ধ থাকে তাহলে সে নিয়মের বাইরে কি চট্রগ্রামের মেয়র?

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরিজি বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে আমরা পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ রেখেছি। চট্টগ্রাম সিটি মেয়র একজন সম্মানিত মানুষ। উনি ভেনাস রিসোর্টে গেলেন তখন আমাদের লোকজন তার জন্য গেট খুলে দিয়েছে।

ইয়াছমিন পারভীন তিবরিজি আরও বলেন, মেয়রের সাথে যারা এসেছেন তারা সবাই করোনা টেস্ট করেই এসেছেন। মেয়র ও তার সঙ্গীয় লোকজন ছাড়া আমরা অন্য কোনো পর্যটককে সেখানে ঢুকতে দিইনি।

জানা গেছে, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্লা শৈ হ্লা’র আমন্ত্রণে নীলাচল এলাকার ভেনাস রিসোর্টে মধ্যাহ্নভোজনেও অংশ নেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। সেই ভুড়িভোজের ছবি নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করেন সিটি মেয়র রেজাউল।  মেয়রের বিশাল সফরসঙ্গীর উল্লেখযোগ্য ছিলেন প্যানেল মেয়র মো. গিয়াসউদ্দিন, সাবেক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জু, কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর ও সাবেক যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরী।

তবে শুক্রবার সকালে তার ফেসবুকে ঢুকে দেখা গেল, বান্দরবান পর্যটনকেন্দ্র ‘ভেনাস রিসোর্টে’ তোলা সেসব ছবি সরিয়ে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু তার ফেসবুক পেজে এখনও কয়েকটি ছবি রয়েছ।

এই বিষয়ে  সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বান্দরবানের ওই রিসোর্টে বঙ্গবন্ধু কারাতে প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নেই জানিয়ে মেয়র বলেন, আমি সেখানে কোনো প্রমোদ-ভ্রমণে যাইনি। ওই প্রোগ্রাম ১৫ দিন আগেই নির্ধারিত ছিল। সেখানে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। 

করোনার ঊর্ধ্বগতিতে দেশে যখন লকডাউন চলছে। রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানটিও কি বাতিল করা যেত না এমন প্রশ্নের জবাবে  মন্তব্য করেননি চট্রগ্রাম সিটির মেয়র। 

গত ৩১ মার্চ প্রশাসক ইয়াসমিন পারভীন তিবরিজি পর্যটন স্পটগুলো দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেলেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় সংক্রমণ রোধে গত ১ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের জন্য বান্দরবান জেলার সবগুলো পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।