শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ ও পরিবার বিচ্ছিন্ন থাকায় আত্মহত্যা করেন মিলন

সংগ্রহীত

শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ ও পরিবার বিচ্ছিন্ন থাকায় আত্মহত্যা করেন মিলন

শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ তার ওপর আর্থিক টানা পোড়েন এবং পরিবার বিচ্ছিন্ন থাকায় অবসাদে ভুগে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটের অস্থায়ী কর্মচারি মিলন। এমনটাই মনে করছেন তার সহকর্মীরা। ১৯ মার্চ রাতে, প্রতিষ্ঠানটির বাথরুমে শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যা করে সে। 

খুব ছোট থাকতেই বাবা মাকে হারান মিলন। বড় হন ফুপুর কাছে। পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে দুই বছর বয়সেই হারান হাটা চলার ক্ষমতা। গেল তিন বছর আগে বোনের সাথে ঝগরা করে তার সাথেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে। এরপরই ২০১৯ সালের ৪ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি  ইনিস্টিউটে অস্থায়ী ভাবে ক্লিনার পদে নিয়োগ পান মিলন। তবে কাজ করতেন হাসপাতালটির অনুসন্ধান বিভাগে। 

কিন্তু হঠাৎই ১৯ মার্চ রাতে প্রতিষ্ঠানটির বাথরুমে নিজ শরীরে স্যানিটাইজার ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মিলন। পুড়ে যায় শরীরের ৯৫ শতাংশ। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

আত্মহত্যার কারণ জানতে চাইলে কেউ সঠিক ভাবে কিছুটা জানাতেন পারেননি। তবে সহকর্মীরা বলছেন, পঙ্গু হওয়ায় মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছিল সে। আর্থিক টানাপোড়েন যেন ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী।

মিলনের এধরণের সিদ্ধান্তের সঠিক কারন জানাতে পারেননি তার বোনও। তবে, তার আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোন কারণ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। এবিষয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।