শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দর্শনীয় স্থান সর্বত্র নারীদের গোপনে ভিডিও করে প্রচার করতো মোক্তাদির

মোরশেদ আলম,চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-

রাস্তায় চলতে ফিরতে স্কুল কলেজের ছাত্রী কিংবা ও তাদের নারী অভিভাবকদের গোপনে ভিডিও করে সেই ভিডিও গুলোতে রগরগে শিরোনাম দিয়ে ফেসবুক পেইজে পোস্ট করে বিকৃত রুচির মানুষদের খোরাক যোগাতে কথিত ‘*** আড্ডা’ নামক পেইজের এডমিন৷ তবে (৩ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর ডিবি পুলিশের জালে আটকা পড়েছে ২৫ বছর বয়সী মো. গোলাম মোক্তাদির ।

২০১৬ সাল থেকে চালু হওয়া সেই পেইজটিতে ঠিকানা দেখানো আছে রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলা শহর কিন্তু পেইজটিতে পোস্ট করা ভিডিও গুলো সবই চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিনোদন স্পটে গোপনে ধারণকৃত৷ মূলত চট্টগ্রাম নগরের স্বনামধন্য বালিকা স্কুল ও কলেজে যাতায়াতের সময় সেখানের শিক্ষার্থী ও তাদের নারী অভিভাবকদের গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুক পেইজে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিলো৷

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আসিফ মহিউদ্দিন জানিয়েছেন শুক্রবার সীতাকুণ্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক গোলাম মোক্তাদিরের বাড়ি গাইবান্দা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার সাপমারা এলাকায়৷ সে জনৈক আবদুল মান্নান মণ্ডলের ছেলে। গ্রেফতার যুবক মোক্তাদিরের কাছ থেকে মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ উদ্ধার হয়। গোলাম মোক্তাদির পেশায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) আসিফ মহিউদ্দীন জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিনোদন ও বিভিন্ন থিম পার্ক সহ দর্শনীয় স্থান থেকে বিভিন্ন বয়সের স্কুলছাত্রী, অভিভাবক ও নারীদের কৌশলে কিংবা গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা বিকৃত শিরোনাম দিয়ে ফেসবুকে প্রচারের দায়ে গোলাম মোক্তাদিরকে আটক করা হয়েছে। তার ল্যাপটপে ও মোবাইলে অন্তত প্রায় ৩০০ ভিডিও পাওয়া গেছে। সে এসব ভিডিও গত ছয় মাসে ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে ধারণ করা হয়েছে বলে সে স্বিকার করেছে৷ গ্রেফতারের পর এই ভিডিও কান্ডে আরো কারা জড়িত এসব বিষয়ে তাকে প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে৷

পেশায় একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোক্তাদিরের বিরুদ্ধে গোলাম মোক্তাদিরের বিরুদ্ধে পর্নগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের হচ্ছে বলে জানান আসিফ মহিউদ্দীন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ‌ওই যুবক মোক্তাদির ২০১৬ সাল থেকে ‘*** আড্ডা’ (পেইজের নামটির বাড়তি প্রচারণা না ছড়াতে গোপন রাখা হলো) নামে একটি ফেসবুক ফ্যান পেজ চালিয়ে আসছিলো। গত ৬ জানুয়ারি থেকে ওই পেইজে নগরীর একটি স্বনামধন্য বালিকা স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ও নারী অভিভাবকদের ভিডিও গোপনে ধারণ করে পোষ্ট করতে শুরু করে। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত প্রায় ৪০ দিনে ২৭ টি ভিডিও পোষ্ট করা হয়, যার প্রতিটি গোপনে মোবাইলে ধারন করা। এতে স্কুলের শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্যে বাহিরে অপেক্ষায় থাকা অভিভাবক বিশেষ করে নারী অভিভাবকদের ভিডিও ধারন করা হয়। বিষ্ময়কর ভাবে সেই পেইজে ৩০ হাজারেরো অধিক ব্যক্তি লাইক দিয়ে এসব বিকৃত রুচির সমর্থন জুগিয়েছে৷