শিশু আমির হামজার হত্যাকে খিঁচুনী বলে প্রচারের ০৫ মাস পর পুলিশের তদন্তে রহস্য উদঘাটন এবং খুনি আসামী আটক

শিশু আমির হামজার হত্যাকে খিঁচুনী বলে প্রচারের ০৫ মাস পর পুলিশের তদন্তে রহস্য উদঘাটন এবং খুনি আসামী আটক

আমির হামজা(২০ মাস) এর মা মোসাঃ সালমা আক্তার পারিবারিক অভাবের কারনে কুমিল্লা ইপিজেড এলাকায় চাকুরি করে। সেই কারনে তাহার শিশু সন্তান আমির হামজাকে শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদ এর কাছে রেখে যায়।

গত ২৫/১২/২০২০ খ্রিঃ তারিখ আমির হামজার মা সংবাদ পায় যে, তাহার ছেলে আমির হামজা মৃত্যু বরন করেছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে আমির হামজার মা বাড়ীতে এসে পরিবারের লোকজনের নিকট জানেন যে, তাহার ছেলে আমির হামজা খিঁচুনী উঠার ফলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু বরন করে। উক্ত বিষয়ে থানায় সংবাদ দিলে দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনা সংক্রান্তে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করে।

ঘটনার বিষয়ে মৃত আমির হামজার পরিবারের কাহারো কোন অভিযোগ না থাকায় ইতিপূর্বে ডিসেম্বর/২০২০ খ্রিঃ মাসে অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়। তথাপিও দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরিফুর রহমান উক্ত ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য তথ্য সংগ্রহ পূর্বক গোপনে তদন্ত শুরু করেন।

মাননীয় পুলিশ সুপার, কুমিল্লা মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরিফুর রহমান তদন্তকালে আমির হামজার খিঁচুনী রোগে মৃত্যুর বিষয়টি সন্দেহ হওয়ায় তথ্য সংগ্রহ সহ গোপনে ব্যাপক তদন্ত শুরু করেন। তদন্তকালে আমির হামজার ফুফু ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশের তৎপরতা অনুভব করে আমির হামজার ফুফু মোসাঃ স্বপ্না আক্তার আত্মগোপন করে। আমির হামজার ফুফুকে আটকের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরিফুর রহমান সঙ্গীয় এসআই/মোঃ মাহবুবুর রহমান খাদিম বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে মোসাঃ স্বপ্না আক্তারকে আটক করে।

প্রথমে আসামী সু-কৌশলে ঘটনার বিষয়ে এড়িয়ে গেলেও অফিসার ইনচার্জ মোঃ আরিফুর রহমান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান খাদিম বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ সহ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামী শিশু আমির হামজা হত্যার মূল রহস্য প্রকাশ করে। ঘটনার বিবরনে মোসাঃ স্বপ্না আক্তার জানায় যে, গত ২৫/১২/২০২০ খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যা বেলা মৃত আমির হামজা কান্নাকাটি করিয়া স্বপ্নাকে বিরক্ত করায় সে আমির হামজাকে রান্না করার কাজে ব্যবহৃত গরম কাঠের কাঠি দ্বারা স্বজোরে ঘাঁড়ে আঘাত করে এবং শ^াসরোধ করে খাটের মধ্যে চাপিয়া ধরিলে আমির হামজা মারা যায়।

পরবর্তীতে ঘটনার বিষয়টি গোপন করার জন্য আমির হামজার খিঁচুনী হয়ে মৃত্যু বরন করেছে বলে আমির হামজার মা সহ অন্যান্য লোকজনের নিকট প্রচার করে।

আসামী মোসাঃ স্বপ্না আক্তার শিশু আমির হামজাকে হত্যা করার ঘটনার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।