শূন্য ভোট পাওয়া প্রার্থী বললেন নিজের ভোট ভাইকে দিয়েছি

শূন্য ভোট পাওয়া প্রার্থী বললেন নিজের ভোট ভাইকে দিয়েছি

ওয়ার্ড সদস্যপদে শূন্য ভোট পেয়েছেন নেত্রকোণার খালিয়াজুরি উপজেলার নগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আশীষ সরকার। এখন সকলের মনে প্রশ্ন তাহলে প্রার্থীর নিজের ভোট গেল কোথায়? এ নিয়ে এলাকার সর্বত্রই চলছে আলোচনা সমালোচনা।

গত ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে খালিয়াজুরি উপজেলার নগরসহ চার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আশীষ সরকারসহ মোট ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

দিনশেষে ফলাফল দেখে সবার চোখ কপালে। ফলাফলে কবীন্দ্র চন্দ্র সরকার তালা প্রতীক নিয়ে ৩০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আর অন্য প্রার্থী সুদিন সরকার ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৯৪ ভোট, মো. হারুন মিয়ার মোরগ নিয়ে পেয়েছেন ১৪৩ ভোট। কিন্তু আশীষ সরকার টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে একটি ভোটও পাননি। এই ফলাফল দেখে আশিষ সরকারের ঘটনা নিয়ে আলোচনায় চাপা পড়ে যায় কবীন্দ্র সরকারের বিজয়ের উল্লাস।

এ ব্যাপারে আশীষ সরকার বলেন, সুদিন আমার চাচাতো ভাই। প্রথমে সে মনোনয়নপত্র দাখিল করে। সুদিনের নামে মামলা থাকায় লোকজন বলাবলি করছিল যে, তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাবে। এসব কথা শুনে আমিও মনোনয়নপত্র দাখিল করি। আমরা চেয়েছিলাম আমাদের পরিবারের একজন প্রার্থী থাকুক। বাছাইয়ের পর জানা গেল, ভাই সুদিনের মনোনয়নপত্র টিকে গেছে। আমার নামে ব্যাংক ঋণ আছে। তাই আমার নিজের মনোনয়নপত্রের ব্যাপারে খোঁজখবর নেই নাই। ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচন করেছি। আমার ভোটও ভাইকে দিয়েছি। তাই আমি শূন্য।

খালিয়াজুরি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক স্বাগত সরকার শুভ বলেন, এ কথা ঠিক যে আশীষ তার ভাইকে পাস করানোর জন্য কাজ করেছেন। তবে তার নিজের প্রাপ্ত ভোটের ঘর ‘শূন্য’  থাকায় বিষয়টি নিয়ে মানুষ খুব মজা করছে। তাদের প্রশ্ন, আশীষের নিজের ভোট গেলো কোথায়?

উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় সুদিন ও আশীষ দুজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ বলে গ্রহণ করা হয়। ঘোষিত ফলাফল সঠিক।