সংলাপ অর্থহীন, ফখরুল

সংলাপ অর্থহীন, ফখরুল
নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপকে অর্থহীন বলে অ্যাখায়িত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (০১ জানুয়ারি) রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এরআগে ছাত্রদলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির নেতা কর্মীদেরকে নিয়ে জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল।
‘সব রাজনৈতিক দলসহ রাষ্ট্রপতিও নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের কথা বলেছেন। কিন্তু আইনমন্ত্রী বলছেন- আইন করার কোন সুযোগ নেই’- এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমরা তো এই সংলাপকে অর্থহীন মনে করছি। আমরা মনে করি, বর্তমান যে রাজনৈতিক সঙ্কট। সেই সঙ্কটটা নির্বাচন কমিশন গঠনের সঙ্কট নয়। আর আইন তৈরী করারও সঙ্কট নয়। প্রধান যে সঙ্কটটা, সেই সঙ্কটটা নির্বাচনকালীন সময়ে কোন রকম সরকার থাকবে? সেটাই হচ্ছে প্রধান সঙ্কট।
‘যদি আওয়ামী লীগ সরকারে থাকে তাহলে তো এই নির্বাচনের কোন মূল্যই হতে পারে না এবং কোন অর্থই হতে পারে না। অবশ্যই আমরা যেটা বলেছি, নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে। যারা নিরপেক্ষভাবে একটা ইসি গঠন করে তাদের পরিচালনায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এর জন্য কোন কি বিএনপি কোন প্রস্তাব দেবে- এই প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা তো প্রস্তাব দিয়েই রেখেছি। আমাদের প্রস্তাব তো সকলের কাছে এবং প্রকাশ্য জনগণের কাছে ওপেন আছেন।
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার আইনের কোন সুযোগ নেই- সরকারের দুই মন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আর তাদের (সরকার) কথায় সাজা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এটা করা হয়েছে। আর আজকে যে তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না, সেটাও কোন আইনি ব্যাপার নয়। সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়।
‘আজকে শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণেই এ ধরণের একটা অবস্থা তৈরী করে রেখেছেন। যাতে করে বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার সুযোগ না পান এবং যে অসুখটা হয়েছে, যাতে ধীরে ধীরে তিনি মৃত্যুর দিকেই চলে যান। এটাই তারা চাচ্ছেন। তবে দায়-দায়িত্ব সমস্ত এই সরকারকেই বহন করতে হবে। আর এর পরিণতি যদি কোন খারাপ হয়, তারও দায়-দায়িত্ব তাদেরকেই বহন করতে হবে।
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসায় বিএনপির পদক্ষেপ কি হবে- এই প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন- আপনারা দেখছেন- আমরা আন্দোলন করছি। এই আন্দোলন আরো বেগবান হবে। আর নিঃসন্দেহে সেই আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো।
নতুন বছরে বিএনপির প্রত্যাশা কি- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইংরেজি নতুন বর্ষে বিএনপি, ছাত্রদল, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আর আশা করছি, এই নববর্ষে জনগণ ও গণতন্ত্র মুক্ত হবে এবং খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। আর দেশে অবশ্যই আমরা একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো।
এসময়ে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সিনিয়র সহ ভাপতি কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ সংগঠনটির নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।