সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন শুনানি শেষ, আদেশ পরে

সংগ্রহীত

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন শুনানি শেষ, আদেশ পরে

অনুমতি ছাড়া করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সরকারি নথির ছবি তোলার অভিযোগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের করা অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট মামলায় দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন শুনানি শেষ হয়েছে। আর জামিনের আদেশ পরে দেওয়া হবে বলে জানান আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভার্চুয়ালি শুনানি শেষ হওয়ার পরে সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান রোজিনা ইসলামের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।

গত মঙ্গলবার (১৮ মে) দুপুরে অনুমতি ছাড়া করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সরকারি নথির ছবি তোলার অভিযোগে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের রিমান্ড আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ জসিম এ নির্দেশ দেন।

এর আগে রোজিনার বিরুদ্ধে করা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের করা অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট মামলা ডিবিতে স্থানান্তর করা হয় বলে জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক।

বৃহস্পতিবার (২০ মে) সকালে তিনি বলেন, প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মামলার তদন্তের স্বার্থে যা যা করা দরকার, তার সবই করা হবে। তিনি বলেন, মামলা তদন্ত করতে কোনো জায়গা থেকে কোনো চাপ নেই।

এদিকে গতকাল বুধবার (১৯ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করে বিভিন্ন সংগঠন। এ সময় সাংবাদিক নেতারা তার মুক্তি দাবি জানান।  

একই দাবিতে গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহ, ফেনী ও ময়মনসিংহসহ মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সংবাদমাধ্যম কর্মীরা।

এ ছাড়াও প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থাটি বলেছে, বিষয়টির দিকে তারা নজর রাখছে এবং এটি স্পষ্টতই উদ্বেগের বিষয়।

প্রসঙ্গত, সচিবালয়ে অনুমতি ছাড়া করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সরকারি নথির ছবি তোলার অভিযোগে রোজিনা ইসলামকে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার পর শাহবাগ থানা পুলিশে সোপর্দ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ৮টার পরে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি টিম সচিবালয় থেকে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিয়ে যায়। রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সিব্বির আহমেদ ওসমানী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।