সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

সংগ্রহীত

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে হামলার দায়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ডেমোক্রাট কংগ্রেসম্যান। এছাড়াও, এই মামলায় তার আইনজীবী রুডি গিউলিয়ানিসহ এক রিপাবলিকান আইনজীবীকে আসামি করা হয়েছে। 

গত ৬ জানুয়ারি ট্রাম্প সমর্থকরা ক্যাপিটল হিলে হামলা করে। হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ নিহত হয়েছে পাঁচজন।   

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওইদিন একটি মিছিলে বক্তব্য রাখছিলেন ট্রাম্প, তার ছেলে, আইনজীবী রুডি ও কংগ্রেসম্যান মো ব্রুকস। পরে সেই মিছিল থেকে ক্যাপিটলে হামলা চালানো হয়।

মামলাকারী কংগ্রেসম্যান সলওয়েল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজিত হয়ে ট্রাম্প শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে তিনি বার বার তার সমর্থকদের বলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সমর্থকদের ওয়াশিংটন ডিসিতে নামার আহ্বান জানান।’

তিনি বলেন, ‘আসামিরা সমর্থকদের সংগঠিত করেছেন, প্ররোচিত করেছেন, উত্তেজনা ছড়িয়েছেন। ওই ঘটনায় হতাহত এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় তারাই দায়ী।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে আবারও হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে স্থগিত করা হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের বৃহস্পতিবারের (০৪ মার্চ) অধিবেশনও।

এর আগে ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের দিন নির্ধারণ হওয়ার আগে ৪ মার্চ মার্কিন সংবিধানে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে ক্যাপিটল পুলিশ জানায়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একদল উগ্র সমর্থক আগেই প্রচার করেছে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির কারণে হেরে যাওয়া ট্রাম্প ঐতিহাসিক ৪ মার্চ দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, এমন ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ায় এদিন আবারও ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের একদল উগ্র সমর্থক হামলার ষড়যন্ত্র করছে বলে তথ্য মিলেছে। আর সে গোয়েন্দা তথ্যকে গুরুত্ব দিয়েই যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

এদিকে ক্যাপিটল হিলের হামলায় অংশ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। হামলার ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও ২৯ জনের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব সিনেটে পাশ না করার কারণে তিনি পার পেয়ে যান দ্বিতীয়বারের মত। কিন্তু এবার মামলা থেকে কিভাবে রেহাই পাবেন সেটাই দেখার বিষয়।