সিআরবি এলাকা জুড়ে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

মোর্শেদ আলম,চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-
করোনাভাইরাসের সংক্রামন প্রতিরোধে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ সহ নগরীর বেশীর ভাগ বিনোদনের স্থান গুলোতে জনসমাগম বন্ধ রেখেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ৷ সেই সাথে বর্তমান পরিস্থিতিতে নগরবাসিকে ঘরের বাহিরে চলাচলের ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান করা সহ সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা জারি আছে৷ কিন্তু এখনো অনেকেই নিয়ম নির্দেশ অমান্য করতে দেখা যাচ্ছে৷

বিগত দিন গুলোতে প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর কঠোর নজরদারী ও জনসচেতনতা সৃষ্টির ফলে ঘরের বাহিরে মাস্ক পরিধান সহ জনসমাগম থেকে বিরত থেকেছে নগরবাসী৷ কিন্তু সরকারের সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর আবারো যেমন খুশি তেমন চল রিতিতে চলতে ফিরতে শুরু করেছে অনেকেই ৷

শুক্রবার (৩ জুলাই) সরেজমিন কোতোয়ালী থানাধীন সিআরবি এলাকা ঘুরে সেখানে ভ্রমন পিপাসুদের উপচে পড়া ভীড় আর অসচেতনতা লক্ষ্য করা গেছে৷ সিআরবি হাসপাতাল, সাত রাস্তার মোড়, শিরিষ তল এলাকায় ঘুরতে আসা বেশীর ভাগ ভ্রমন পিপাসুদের মুখে মাস্কহীন আর সামাজিক দূরত্বের পরিবর্তে দল বেঁধে ঘুরোঘুরি আর আড্ডা দেয়ার চিত্রই বেশী ধরা পড়ে৷

শিরিষ তল মাঠে একাধিক দল বিভিন্ন খেলাধূলায় মেতে আছে৷ সেখানের তিন দিক জুড়ে বিপুল জনসমাগম দেখে বোঝার উপায় নেই এখন দেশে করোনাভাইরাস সংক্রামনের ঝুঁকি আছে। এখানে আড্ডা দিচ্ছিলো উঠতি বয়সি একদল তরুন-তরুনী৷

করোনার সংক্রামনের ঝুঁকির ভেতর স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এভাবে আড্ডা দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা বলেন, “বাসায় বসে থাকতে থাকতে বোর ফিল করছি৷ কলেজ বন্ধ তাই আজ বন্ধুরা একটু ঘুরতে বের হয়েছি৷”
তাদের একজনেরো মুখে মাস্ক না পড়ার কারন জিগ্যাস করলে কয়েকজন পকেট থেকে মাস্ক বের করে বলেন, মাস্ক পকেটে আছে৷ মাস্ক পরলে আড্ডা জমেনা৷

সিআরবি সাতরাস্তার মোড়ে দুই কিশোরকে একই প্রশ্ন করলে তারা বলেন, পাশের এলাকাতেই আমাদের বাসা আর আমরা তো রোজ এখানে আসি৷ এখন আর কেউ আসতে বাঁধা দেয়না৷

অথচ গত এপ্রিল মাসে (২০ এপ্রিল) এই সিআরবি এলাকাতে অহেতুক ঘুরতে বের হওয়া তরুণদের অভিনব শাস্তি দিয়ে নজর কেড়েছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের-সিএমপি কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা। তিনি জানান, যৌক্তিক কোনো কারণ না থাকায় সিআরবি সাতরাস্তার মোড়ে বসে প্রতিজনকে কাগজে ৫০০ বার করে লিখতে হয়েছে ‘আমি দুঃখিত’। ২০ এপ্রিল যৌক্তিক কারণ না থাকায় সিআরবি সাতরাস্তার মোড়ে বসে প্রতিজনকে কাগজে ৫০০ বার করে লিখতে হয়েছে ‘আমি দুঃখিত

সিএমপি কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা বলেন, বিগত কয়েক মাস যাবৎ আমরা নিরলস এসব বিষয়ে কাজ করতে যাচ্ছি৷ দেখা যায় যতক্ষন আমরা (পুলিশ) তৎপর থাকি ততক্ষন একশ্রেণীর মানুষ সব কিছু মেনে চলে৷ আমরা সরে গেলেই আবার তারা নিয়ম ভাঙ্গা শুরু করে৷ এটা সত্যি দুঃখ জনক৷

ইতিমধ্যে আমাদের শহরে সংক্রামণের হার বেড়ে গেছে৷ একই সাথে আমাদের পুলিশ সদস্যরাও এই করোনা প্রতিরোধ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। একাধিকজন পুলিশ করোনায় মারাও গেছেন আর এমনিতে জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সংখ্যাও কম। তাই যতক্ষন পর্যন্ত জনসাধারণ নিজেরা সচেতন না হবেন ততক্ষন কোন কিছু দিয়েই এসব ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবেনা৷
বর্তমান সময়ে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যেহেতু সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকান পাঠ খোলা আছে তাই সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর থেকেই পুলিশের তৎপতা শুরু হয় বলে জানান তিনি।