সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবসা

সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবসা - ছবি : সংগৃহীত

সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবসা

চুয়াডাঙ্গায় প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর তালিকা। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে অক্সিজেন। ফলে সদর হাসপাতাল এলাকায় করোনা রোগীকে ঘিরে অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবসা এখন তুঙ্গে। অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সিলিন্ডার মালিক ও ড্রাইভারদের একটি সিন্ডিকেট করোনা রোগী বহনে তাদের কাছে ১২ কিলোমিটার রাস্তা রোগী পৌঁছাতে ১ হাজার টাকার ভাড়া ৫ থেকে ৬ হাজার ও ঢাকায় ১০ হাজার টাকার ভাড়া ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকা নিচ্ছেন। একই ভাড়ার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে ফ্রি অক্সিজেন সুবিধা দেয়া কথা থাকলেও প্রতিটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য রোগীদের কাছ থেকে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে।

এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরো ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

এনিয়ে জেলায় সরকারি হিসেবে করোনায় মোট ১১০ জনের মৃত্যু হলো। তবে বেসরকারি হিসেবে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি। জেলায় নতুন করে আরো ১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত চুয়াডাঙ্গার ৪০টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১৪টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ ও ২৬টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫১৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৫৪৭ জন, আলমডাঙ্গার ৫৬০ জন, দামুড়হুদায় ৮০৪ জন ও জীবননগরে ৬০১ জন। শুক্রবার জেলা থেকে আরো ৫ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ৩০৬ জন।

এ দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতার কর্তৃপক্ষ করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবায় কোনো ত্রুটি নেই জানালেও সরেজমিনে তার প্রমাণ মেলেনি।

এ ছাড়া করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীদের অভিযোগ, ‘স্বেচ্ছাসেবক আর নার্স ছাড়া চিকিৎসকের দেখা মিলছে না। দিনে একবার চিকিৎসক এলেও দূর থেক উঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছেন।’

হাসপাতালের রেড জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া দুজন হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার নওদাপাড়ার আব্দুস সাত্তারের ছেলে শুকুর আলী (৪০) ও জীবননগর উপজেলার মোনহরপুর গ্রামের নুরুন্নাহার (৭০)।

এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা থেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) জিন্নাত আলীর। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার গুলশানপাড়ার বাসিন্দা।

সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া তিনজন হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়েনের রফিকুলের স্ত্রী আমেনা বেগম (৫৫), দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের বিশারত আলীর স্ত্রী আমেনা খাতুন (২৮) ও কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানার মনোহরদিয়া গ্রামের হেলাল উদ্দীনের স্ত্রী শ্যামলী আক্তার।

চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১৪ হাজার ১৫৮টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১৩ হাজার ৩৫৫টি, পজিটিভ ৩ হাজার ৫১৫ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৯৫ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ২৪ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৭১ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১১০ জন। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ৯৬ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।