স্পিডবোট মালিক-চালকসহ চারজনের নামে মামলা

সংগ্রহীত

স্পিডবোট মালিক-চালকসহ চারজনের নামে মামলা

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে বালুবোঝাই বাল্কহেডে স্পিডবোটের ধাক্কায় ২৬ জন নিহতের ঘটনায় চার জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (৩ মে) রাতে নৌপুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) লোকমান হোসেন বাদী হয়ে শিবচর থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় স্পিডবোটের চালক শাহ আলম, মালিক চান্দু মোল্লা ও রেজাউল এবং বোটের ইজারাদার শাহ আলমকে আসামি করা হয়েছে।

মাদারীপুর নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সকালে কাঁঠালবাড়ি ঘাট এলাকায় নোঙর করে রাখে বালুবোঝাই বাল্কহেডে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটের ২৬ যাত্রী নিহত হয়। ওই দুর্ঘটনায় মৃত ২৬ জনের মধ্যে ২৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাদারীপুর জেলার চারজন, বরিশালের ছয়জন, খুলনার একই পরিবারের চারজন, কুমিল্লার তিনজন, ফরিদপুরের একজন, চাঁদপুরে একজন , নড়াইলে একজন, মুন্সিগঞ্জ একজন, ঢাকার একজন, ঝালকাঠির একজন, এবং পিরোজপুরের দুইজন। বাকি একজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা: মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মৌলতীকান্দি এলাকার আজিত মোল্লার ছেলে আলম মোল্লা (৩৮), একই উপজেলার গুয়াতলা এলাকার আদম আলী মোল্লার ছেলে শাহাদাত হোসেন (৪২), রাজৈর উপজেলার শঙ্কারদি এলাকার তারা মিয়া মীরের ছেলে তাহের মীর (৩০), সদর উপজেলার শ্রীনদী এলাকার আবদুল মান্নান মোল্লার ছেলে আব্দুল আহাদ (৩০)। 

খুলনার তেরোখাদা উপজেলার পারুফল এলাকার মৃত আলম মিয়ার ছেলে মনির মিয়া (৩৮), মনির মিয়ার স্ত্রী হীনা বেগম (৩৬), তাদের মেয়ে রুমি আক্তার (৩) ও সুমি আক্তার (৫)। 

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আশা এলাকার রক্তু হোসেনের ছেলে সাইদুল হোসেন (২৭), একই উপজেলার পূর্বষট্টি এলাকার সাদেক বেপারীর ছেলে রিয়াজ হোসেন (৩৩), সাইফুল ইসলাম (৩৫), একই উপজেলার মনির হোসেন (৩৫), বরিশালের বন্দর থানার তেদুরিয়া এলাকার মো. আলী আহমেদের ছেলে আনোয়ার চৌকিদার (৫০), বানারীপাড়া উপজেলার হাশেম বেপারীর ছেলে আলাউদ্দিন বেপারী (৪৫)। 

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ইউসূফপুর এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে জিয়াউর রহমান (৩৮), দাউদকান্দি উপজেলার মাইখারকান্দি এলাকার মৃত আবদুল হাশেমের ছেলে মো. কাওসার আহমেদ (৪০) একই এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মো. রুহুল আমিন (৩৬)। 

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার মাইগ্রো এলাকার মৃত পান্নু সরদারের ছেলে আরজু সরদার (৪০) এবং আরজুর দেড় বছর বয়সী ছেলে ইয়ামিন। চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার মোহনপুর এলাকার মৃত আলী হোসেন বেপারীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫)। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার রাজাপুর এলাকার হাফিজুর রহমানের ছেলে জোবায়ের মোল্লা(৩০)। মুন্সিগঞ্জের সাতপাড় এলাকার চান মিয়া শেখের ছেলে সাগর শেখ (৪১)। 

ঢাকার পীরেরবাগ এলাকার নুরে আলমের ছেলে খোরশেদ আলম (৪৫)। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রাজাবাড়িয়া এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুস শিকদারের ছেলে নাসিরউদ্দিন (৪৫)। পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার চরখানা এলাকার মো. ওহিদুর ছেলে বাপ্পী (২৮), ভান্ডারিয়া উপজেলার পসারিয়াবুনিয়া এলাকার রঞ্জন অধিকারীর ছেলে জনি অধিকারী (২৬)।

ঘাট কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র জানায়, সকাল সাতটার দিকে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট থেকে ৩০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজারের দিকে যাচ্ছিল। বাংলাবাজার ফেরিঘাটের কাছাকাছি এলে নোঙর করা বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়। এতে স্পিডবোটটি সজোরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। 

খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাঁতরে তীরে উঠছেন ৫ জন। তাদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে এক নারীর মৃত্যু হয়।